
খোন্দকার মাকসুদুর রহমান বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই এবং দেড় মাস পর কনিকা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার ২১ আগষ্ট বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান এবং ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একজন মায়ের মৃত্যু চিকিৎসা অবহেলার কারণে হয়েছে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার কনিকার পরিবারের পাশে থাকবে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন কনিকা মন্ডল (৩৫)। অস্ত্রোপচারের পর তার পেট ফুলে যায় এবং অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। পরে অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে তিনি মারা যান।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং পরদিন সরেজমিনে কনিকার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিকিৎসা অবহেলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।