
মোঃ নজরুল ইসলাম নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের কান্দাইল গ্রামে চাঞ্চল্যকর রিকশাচালক আব্দুল মান্নান (১৯) ওরফে মান্না হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজনদের এজাহারে অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মান্নার চাচা মো. জামাল মিঞা।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২০ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার পর থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মান্না। দীর্ঘ ২৩ দিন খোঁজাখুঁজির পর গত ১৩ আগস্ট কান্দাইল ছেরেন্দা কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এক নির্জন স্থান থেকে তার অর্ধগলিত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের পরনের পোশাক দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে নিহতের বাবা ফারুক বাদী হয়ে মাধবদী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, নিখোঁজের দিন কান্দাইল উত্তর পাড়ার মুনজুর, রবিউল, খোকন, মহসিন, নাসিম, পায়েল ও আমানুল্লাসহ বেশ কয়েকজন যুবকের সাথে দীর্ঘ সময় আড্ডা দিতে দেখা গিয়েছিল মান্নাকে। এরপর থেকেই সে আর বাড়ি ফেরেনি।
নিহতের পরিবারের দাবি, লাশ উদ্ধারের পর এই সন্দেহভাজনদের নাম ও তথ্য একাধিকবার পুলিশকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। মূল আসামীদের এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা তো দূরের কথা, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদের থানায় তলব করেনি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মান্না হত্যার নেপথ্যের মূল রহস্য উন্মোচনসহ অভিযুক্তদের অবিলম্বে মামলায় আসামী হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সকল আসামীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।