
লিমন হায়দারঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরের হরিরামপুর ইউপি’র গুড়গুড়ি মৌজায় দুর্বৃত্তরা কৃষক মিজানুর রহমান (৩৮)এর ৬২ শতাংশ জমির আমন ধান ঘাঁস মারা ওষুধ দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।রাতের আঁধারে ঘাঁস মারা ওষুধ স্প্রে করে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।ঘটনা উল্লেখ করে ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজ থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।পাশাপাশি উপজেলা কৃষি দপ্তরকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার হরিরামপুর ইউপি’র গুড়গুড়িতে মমিনুল ইসলামের ছেলে কৃষক মিজানুরের ৬২ শতাংশ জমির আমন ধানের চারা গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘাঁস মারা ওষুধ স্প্রে করে পুড়িয়ে দেয়।৩০ সেপ্টেম্বর সকালে ওই কৃষক খেতের ধান গাছ পুড়ে লালচে হয়ে গেছে দেখতে পান।৩ সেপ্টেম্বর (শনিবার)
সকালে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষকের ভাই কামরুজ্জামান বলেন, স্বপ্নের ক্ষেতের ধান হারিয়ে তার ভাই হতবাক হয়ে পড়েছেন।এই জমিতে ৪০ মন প্লাস আমন ধান উৎপাদন হতো।কিন্তু দুর্বৃত্তরা ঘাস মারা ওষুধ স্প্রে করে আমার ভাইয়ের খেতের স্বপ্নের ফসল শেষ করে দিয়েছে।
গুড়গুড়ি এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান,আমার ছেলে সোহাগকেও সেদিন মিজানের সঙ্গে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পিটিয়েছে বিট অফিসার।সেদিন আটকিয়ে রাখতে না পেরে বা মামলা দিতে না পারায় বন বিভাগের ওই জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতেই হয়তো এই ক্ষতি করেছে ওই বিট কর্মকর্তা।আমরা এটার বিচার চাই।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,২৪ সেপ্টেম্বর ওই বিট কর্মকর্তা রাফিউল সন্দেহের উপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিজান ও সোহাগকে যেভাবে পিটিয়েছে এটা মোটেও ঠিক হয়নি।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিব হুসোইন জানান, আজ মুঠোফোনে এ ধরনের একটি খবর পেয়ে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ওই কৃষকের ধানক্ষেত পরিদর্শন করা হয়।ধান মারা ওষুধ স্প্রে করে ধান খেত পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ওই ক্ষেতের ধান আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।এদিকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদনের পরামর্শ দিয়েছি ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিজানুর জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যপাড়া রেঞ্জের বিট অফিসার রাফিউল ইসলাম তেতলি পাম্পের সামনে গাছ চুরির সন্দেহে আমাকে আটক করে মারডাং করে রেঞ্জ অফিসে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় আমার বাম পায়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।পায়ে ৩টি সেলাইও দিতে হয়েছে।এরপর খবর পেয়ে আমার এলাকার লোকজন আমাকে রেঞ্জ অফিস থেকে উদ্ধার করে।যেহেতু পুড়ে যাওয়া ঐ খেতটি বন বিভাগের আমি দীর্ঘদিন ২০ বছর থেকে চাষাবাদ করে আসছি।সম্ভবত আমাকে সরিয়ে দিতেই হয়তো তিনি আমার উপর এই অত্যাচার করছেন।কারণ,আমার আর কোন শত্রু আমি দেখছি না।আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে আজ শনিবার সকালে মুঠোফোনে বিট কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম জানান,সেদিন তাদের সাথে ধস্তাধস্তি হয়েছে।তারা যখন আক্রমণ করল বাধ্য হয়ে আমরাও আক্রমণ করি।এই ঘটনায় আমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।কেউ যদি বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে তো আমরাই যথেষ্ট।এজন্য তো আমাদের কারো ফসল পুড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করার প্রয়োজন নেই।তারা হয়তো নিজেরাই এমনটা করে আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।