
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ অবস্থায় নগর ও জেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির মধ্যেও নগরীর কয়েকটি অলি-গলি ছাড়া আপাতত উল্লেখযোগ্য তেমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৭৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. বসির আহমেদ জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই সোমবার সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
তিনি জানান, নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় ও বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদরাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা বলেন, মতিঝর্ণা সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় এলাকায় এবং নদীতীরবর্তী বসতিগুলোতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।
আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান জানান, লালখান বাজার পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড় এবং উত্তর হালিশহর সমুদ্রপাড় এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।