👁 433 Views

ঘোড়াঘাটে ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে  কৃষক দিশেহারা

 

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আমন ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলার সর্বত্রই ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে মহামারী আকার ধারন করেছে। মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে বিপাকে আমন চাষিরা।

ঘোড়াঘাট উপজেলার ফসলের মাঠে কিছুদিন পরই আমন ধান কাটার মৌসুম শুরু হবে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আমন ধানে দেখা দিয়েছে মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

মৌসুমের শেষ সময়ে এসে পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বেশ কিছু জমিতে ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। ফসল রক্ষায় কৃষকরা মাঠে মাঠে ওষুধ স্প্রে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে কৃষকের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। উপজেলার প্রতিটি মাঠের জমিতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কৃষকরা জানান, কারেন্ট পোকা ধানের গোড়ার নিচের অংশ কেটে দিচ্ছে, ফলে পাতা শুকিয়ে গাছ মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে মাজরা পোকার আক্রমণে ধানের শীষ পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকা দেখাচ্ছে। কিছু কিছু জমিতে ধানের গোড়া পচে গিয়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় তারা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলার রামেশ^রপুর এলাকার কৃষক নেজাম উদ্দিন ও ভাতছালা এলাকার ছামছুল হোসেন বলেন, ‘জমিতে পোকার আক্রমণে আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি। ধানের শীষ বের হওয়ার সময়েও জমিতে কীটনাশক ছিটাতে হচ্ছে। প্রতিদিন নানা ধরনের কীটনাশক ছিটালেও পোকার হাত থেকে রেহাই মিলছে না। এখন ফসল ঘরে তোলা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।’

কৃষকরা কোন কূল কিনারা না পেয়ে বাজারে সার, বীজ, কীটনাশক বিক্রেতাদের নিকট ধর্না দিচ্ছে। এ সুযোগে ওই বিক্রেতারা তাদের খেয়াল খুশিমত বিভিন্ন কোম্পানীর কীটনাশক ¯েপ্র করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা পাগলের মত হয়ে কারেন্ট পোকার কীটনাশক ব্যাবহার করছে। সারা মাঠ কৃষকদের কাঁধে কীটনাশক ছিটানো ¯েপ্র মেশিন। মাঠে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৮০ ভাগ ধান ক্ষেতে কারেন পোকার আক্রমণ দেখা গিয়েছে। আমরা দিন রাত ধান ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি ।

এ বিষয়ে ঘোড়ঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, ‘আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে এবার পোকার আক্রমণ কিছুটা বেশি দেখা দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠকসহ কৃষকদের সচেতন করতে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে (৩৪) সুগন্ধি ধান যেহেতু শেষে পাকে, তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন,‘কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠকর্মীরা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছে। আমি নিজেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কৃষকদের ভালো মানের কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রোপা আমন চাষের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭,৩৫০ হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে।