
এম সাজেদুল ইসলাম (সাগর) নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড় জালালপুর মৌজায় বন বিভাগের জায়গায় চুক্তিভিত্তিক সুবিধাভোগীদের লাগানো গাছের টেন্ডারে নাম ও দাম পরিবর্তন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাছের সঠিক সংখ্যা গণনা, প্রজাতি ও বাজারমূল্য যাচাই করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সুবিধাভোগী সদস্যরা। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তারা।
লিখিত আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বড় জালালপুর মৌজার জমিতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বাগান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাতজন স্থানীয় সদস্যের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সুবিধাভোগী সদস্যরা সেখানে আকাশমণি ও বেলজিয়াম (মেনজিয়াম) জাতের গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ১০ অক্টোবর (২০২৬) প্রকাশ পাওয়া টেন্ডারসংক্রান্ত নথিতে বাগানের প্রকৃত গাছের নাম পরিবর্তন করে অন্য গাছের নাম এবং মূল্যসংক্রান্ত তথ্য কমিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী দর নির্ধারিত না হওয়ায় সরকার এবং চুক্তিভিত্তিক সুবিধাভোগী—উভয় পক্ষই বড় অঙ্কের আর্থিক রাজস্ব ও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বন কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো সদুত্তর না পেয়ে তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিধানকান্তি হালদার জানান, “বড় জালালপুর মৌজায় বন বিভাগের গাছের টেন্ডারে নাম ও দাম পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রটি সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার কাছে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে।”
যোগাযোগ করা হলে বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গাছ চুরির বা নাম পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। মূলত অনলাইনে টেন্ডার দেওয়ার সময় একটি টাইপিং ভুল হয়েছিল। সেখানে ‘মেনজিয়াম’ শব্দের পরিবর্তে ভুলবশত ‘মিনজিরি’ লেখা হয়েছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তা সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ যে মূল্য নির্ধারণ তালিকা করা হয়েছে, সেখানে ‘মেনজিয়াম’ গাছ হিসেবেই উল্লেখ আছে এবং ক্রেতারা মেনজিয়াম গাছ হিসেবেই দরপত্র জমা দেবেন।”
তবে বন বিভাগের এই ব্যাখ্যার পরও গাছের সঠিক সংখ্যা ও প্রজাতি সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হয়ে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার আহ্বানের দাবিতে অনড় রয়েছেন উপকারভোগীরা।