
স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ
দুপচাঁচিয়া উপজেলায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর ও বৈষম্যমূলক চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় উপজেলার মোট ১৩৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ৫২৩ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৮৫৪ জন। সমগ্র উপজেলায় গড় পাসের হার মাত্র ৩৭.৯৮% দাঁড়িয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মানের আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হলো বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ২১৮ জনই পাস করেছে।
যার পাসের হার ৯৮.৬৪%। এছাড়া উপজেলায় প্রাপ্ত মোট ১১টি জিপিএ-৫ এর মধ্যে একাই ৯টি অর্জন করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, দুপচাঁচিয়া মহিলা কলেজ কিছুটা সন্তোষজনকভাবে ৪৯.২৭% পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও সেখানে জিপিএ-৫ এসেছে মাত্র ২টি।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি শাহ-ই-তেবাড়িয়া কলেজে পাসের হার মাত্র ২২.৭৫%, সরকারি শহীদ এম. মনসুর আলী ডিগ্রি কলেজে ১৫.২৫%, মরতুজাপুর কলেজে ১৪.১৪% এবং দুপচাঁচিয়া জে. কে. কলেজের ১৯৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২০ জন পাস করায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০.৩১%।
এর চেয়েও শোচনীয় অবস্থা দেখা গেছে বি.ডি.এম আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে, যেখানে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ জন, যার পাসের হার নেমে এসেছে ৬.৬৭%-এ। উদ্বেগের বিষয় হলো, বিয়াম ল্যাবরেটরি ও মহিলা কলেজ বাদে বাকি ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
পরিশেষে বলা যায়, দুপচাঁচিয়া উপজেলায় একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের ঈর্ষণীয় সাফল্য বাদ দিলে সামগ্রিক পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির চিত্র অত্যন্ত করুণ। মোট পরীক্ষার্থীর অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থীর ফেল করা এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার তলানিতে ঠেকে যাওয়া স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল অবকাঠামো ও তদারকির অভাবকেই নির্দেশ করে।
শিক্ষার এই শোচনীয় দশা কাটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীরে গিয়ে কারণ অনুসন্ধান করা এবং জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষার মান উন্নয়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।