
এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট। শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে রংপুর বিভাগের ৫ হাজার ১৩৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসএআরবি)-১৩। বিভাগের অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে লালমনিরহাটের গৌরী শংকর গোশালা সোসাইটি মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর রংপুর বিভাগের আট জেলায় মোট ৫ হাজার ১৩৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে লালমনিরহাট জেলায় ৪৭১টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব চলাকালে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসএআরবি-১৩-এর সদস্যরা প্রস্তুত থাকবেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের ‘আমার অহংকার’ মূলমন্ত্র ধারণ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছে এসএআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা ঘিরে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন এবং পূজামণ্ডপগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ে ব্যাটালিয়নের কন্ট্রোল রুম থেকে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। প্রতিমা বিসর্জনের দিনও নেওয়া হবে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। পাশাপাশি এসএআরবি সদর দপ্তর থেকে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সাইবার মনিটরিং টিমের মাধ্যমে অনলাইনে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, চুরি, ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, যাচাইবিহীন তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই না করে শেয়ার না করা এবং নাশকতার পরিকল্পনা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনার এ উৎসবকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি পাঠ করেন এসএআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।