
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সেনবাগে দুই দিনে পৃথক ঘটনায় এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী, এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক, এক অটোচালক ও এক শিশু সহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (৮ ও ৯ অক্টোবর) এসব ঘটনা ঘটে। পৃথক এসব ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গোরকাটা গ্রামে ধানখেতে ইঁদুর মারার জন্য পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাজা মাইনুদ্দিন প্রকাশ মানিক (৫০) নামে এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের একটি বাগান থেকে দোলন কুমার বণিক (৩০) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি রাসায়নিক পদার্থ পান করেছিলেন। শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কেশারপাড় ইউনিয়নের পশ্চিম কালারাইতা গ্রামের একটি গাছ থেকে মো. হোসেন আহম্মদ (৪৫) নামে এক অটোচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার রাতে ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির পাশের একটি ধানখেত থেকে মো. মারুফ (২১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মো. রিপনের ছেলে। মঙ্গলবার রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কাবিলপুর ইউনিয়নের পূর্ব কাবিলপুর গ্রামের মিঝি বাড়িতে পুকুরের পানিতে ডুবে হুমায়ারা বেগম (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই গ্রামের লিটনের মেয়ে। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন জানান, পৃথক ঘটনাগুলোর মধ্যে কয়েকটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।