👁 337 Views

বাঘায় চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যার ঘাতক স্বামী জহুরুল গ্রেফতার।

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ যুথি খাতুন (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও স্বামী জহুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে বাঘা থানা পুলিশ।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হকের নিখুঁত পরিকল্পনা ও টানা ৪ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর অবশেষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাশের চারঘাট উপজেলার রাওথা এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গা ঢাকা দেওয়া এই আসামিকে গ্রেফতারে ওসির দূরদর্শী নেতৃত্ব স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার মাঠের কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন জহুরুল। এ সময় তাঁদের দেড় বছর বয়সী ছোট ছেলে জায়ান হোসেন কান্নাকাটি করছিল। সন্তানকে শান্ত করা নিয়ে স্ত্রী যুথির সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা বাঁধে। এর আগে এনজিওর কিস্তির টাকা তুলতে এসে এক কর্মী বাড়ি গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে যান এমন নানা পারিবারিক ও আর্থিক চাপ এবং এনজিওর ঋণের কিস্তি নিয়ে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে বিতর্কের একপর্যায়ে জহুরুল ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী যুথিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক জহুরুল নির্বিকারভাবে খোর্দ্দবাউসা বাজারের একটি চায়ের দোকানে গিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ সুরে বলেন, ‘আমার আগে-পিছে কেউ নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’ এর পরই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

খবর পাওয়া মাত্রই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন বাঘা থানার (ওসি) সেরাজুল হক। মামলা হওয়ার পর থেকেই ক্লুলেস ও আত্মগোপনে থাকা ঘাতককে ধরতে তিনি নিজে মাঠে নামে এবং পুলিশ টিমকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। নানা কৌশল ও তথ্য প্রযুক্তির জাল বিস্তার করে মাত্র ৪ দিনের মাথায় সোমবার দুপুরে চারঘাটের রাওথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করেন (ওসি) সেরাজুল হক ও তার টিম। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জহুরুল তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ও দায় স্বীকার করেছে।

এদিকে পুলিশ প্রশাসনের এই দ্রুততম সময়ের প্রশংসনীয় পদক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নিহতের স্বজনেরা ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

বাঘা থানার (ওসি) সেরাজুল হক জানান, “অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা আমাদের মূল দায়িত্ব। ঘটনার পর থেকেই আমরা এক মুহূর্তের জন্যও বসে ছিলাম না। বিভিন্ন সূত্র ও কৌশলগত প্রচেষ্টা চালিয়ে অবশেষে ঘাতক জহুরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। সোমবার বিকেলেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *