👁 492 Views

পাইকগাছায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবীতে সাইকেল র‍্যালি ও সমাবেশ 

কৃষ্ণ রায়, পাইকগাছা (খুলনা) খুলনার পাইকগাছায় উপকূলের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন। ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে খুলনা জেলার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় আয়োজিত সাইকেল র‌্যালি ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই শীর্ষক মাসব্যাপী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে পাইকগাছার মাহমুদ কাটীতে অনির্বাণ লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে সাইকেল র‌্যালী শুরু হয়ে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি, কাশিমনগর এবং সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে প্রচার চালানো হয়। সচেতন সংস্থার সভাপতি বিদ্যুৎ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তৃতা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন অনির্বাণ লাইব্রেরির সহ-সভাপতি বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমীরণ দে, উন্নয়নকর্মী এস এম আফজাল হোসেন, পরিবেশকর্মী শহিদুল ইসলাম প্রমূখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধা প্রযুক্তি নয়, পরিবর্তনের মানসিকতা। বিদ্যুৎকেন্দ্র বলতে আমাদের প্রচলিত ধারণায় এখনো থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টই ভেসে ওঠে। এই মানসিকতা বদলাতে হবে। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মুনাফার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানসম্মত ব্যাটারি ও সোলার প্যানেল নিশ্চিত করতে হবে। আরো বলেন, দেশে এখনো সোলার স্থাপনের জন্য প্রচুর জমি রয়েছে। মাতারবাড়ীর মতো বিদ্যমান জমি কাজে লাগিয়ে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এখন প্রয়োজন পরিবর্তনের বাধা ভেঙে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এ মুহূর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। তবে বিকল্প নেই বলে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। উপকূল জুড়ে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত করার পাশাপাশি বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। দূষণের কারণে সোলার প্যানেলে ধুলার স্তর জমে কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে দূষণ কমানো গেলে সোলার প্যানেলের কার্যকারিতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন দুটিই বাড়বে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয় এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে নিজেদের জ্বালানি নিজেদেরই উৎপাদন করতে হবে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে এখনই সুস্পষ্ট পথনকশা, কার্যকর পদক্ষেপ ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। এই পরিবর্তন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবার দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকার থেকে ৪২টি সংগঠন যৌথভাবে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শিরোনামে বিশেষ প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাসব্যাপী এ প্রচারাভিযানের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সাইকেল ও নৌ-র‌্যালি, সড়ক শোভাযাত্রা, উপকূলীয় পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সেমিনার ও জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে উপকূলীয় পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক যাত্রাও শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *