👁 283 Views

নবাবগঞ্জে মফিদুল হত্যা, নেপথ্যে স্ত্রীকে অশ্লীল গালি দেওয়ার জের,গ্রেফতার ১

এম সাজেদুল ইসলাম (সাগর) ,নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর মো. মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে একজনের মরদেহ পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধারের ঘটনায় মো. মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, স্ত্রীকে অশ্লীল গালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মফিদুলের সঙ্গে মাসুদের কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত মফিদুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদহ গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া তার প্রতিবেশী ও পূর্বপরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মফিদুল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের চার দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাসুদ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ট্যাংকির ভেতরে মফিদুলের মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে একপর্যায়ে পুলিশ মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানিয়েছেন, মফিদুল তার স্ত্রীকে গালি দেওয়ায় ৪ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুদ বাঁশের লাঠি দিয়ে মফিদুলের মাথায় আঘাত করেন। পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর মরদেহটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি ও নিহতের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীকে গালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *