
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কাশিয়াবাড়িতে প্রবাসী স্বরূপ সরকারের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিপরীতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মাদকসেবনের অভিযোগ এবং একটি ভিডিও ফুটেজ সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সম্প্রতি পাওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে কাশিয়াবাড়ির মো. রবিউল ইসলাম—স্থানীয়ভাবে কেশবপুরের ‘হাই মেয়ের ছেলে’ হিসেবে পরিচিত—একটি টিনশেড ঘরে বসে মাদক সেবন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে একটি টেবিলে আগুন ব্যবহার করে ধোঁয়া গ্রহণ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, স্বরূপ সরকারের দিঘির পাড়ে থাকা ওই টিনশেড ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় এবং এতে ব্যবহৃত বস্তু মাদক কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘরে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক মিয়া, মো. হযরত আলী ও মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই পাল্টা অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে আসা ভিডিও ফুটেজটি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, মাদক সংশ্লিষ্টতার সত্যতা অনুসন্ধান এবং অভিযোগের পেছনে প্রকৃত ঘটনা খুঁজে বের করা হোক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—সংবাদ সম্মেলনের আলোচনার আড়ালে যদি সত্যিই মাদকের আসর থেকে থাকে, তাহলে সেই আসর কার ছত্রচ্ছায়ায় চলছিল? আর যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়, তাহলে ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত রহস্যই বা কী?
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তেই বেরিয়ে আসুক—কোনটি সত্য, কোনটি সাজানো অভিযোগ এবং কারা প্রকৃত অপরাধের সঙ্গে জড়িত।