
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ব্যক্তির নামে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের এক বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বেতকাপা ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে, যাদের অনেকের পরিচয় ও বাস্তব অস্তিত্ব স্থানীয়ভাবে যাচাই করে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-ইয়াসার রহমান তাপাদারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে। কমিটির সদস্যরা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে গিয়ে জন্মনিবন্ধনে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাচাই করেও তালিকায় থাকা অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আল-ইয়াসার রহমান তাপাদার বলেন, ‘সরেজমিনে গিয়ে সাতটি জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করেছি। কিন্তু এসব নিবন্ধনে থাকা কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা বলেন, ‘আমি কোনো ভুয়া জন্মনিবন্ধনে স্বাক্ষর করিনি। এসব নিবন্ধন কীভাবে অনলাইনে এন্ট্রি হয়েছে, সেটিও জানি না।’
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তারা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।