👁 384 Views

পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ—দফায় দফায় মারপিটে আহত ৩, থানায় পাল্টা পাল্টা অভিযোগ

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)  প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে তথ্য পাচার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। এতে কলেজের কর্মচারী ও ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষকসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পরকে দায়ী করে পলাশবাড়ী থানায় পৃথক দুটি লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কাজ শেষে কলেজের পিয়ন মো. আকবর আলী বকু মিয়ার সঙ্গে অপর পিয়ন মো. শাহারুল মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শাহারুল বকু মিয়ার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। খবর পেয়ে বকু মিয়ার বড় ভাই মো. মুনছুর আলী (৬৫) ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তিনিও শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মুনছুর আলী বাদী হয়ে শাহারুল মিয়াকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেল ৩টার দিকে কলেজে পরীক্ষা চলাকালে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক সাহারুল ইসলাম (৪৫)-কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, কলেজের গোপনীয় তথ্য পাচারের প্রমাণ পাওয়ার অভিযোগে অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিয়ন মো. শরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। ওই বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে সাহারুল ইসলামের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁর কাছে থাকা ‘ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং’ পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাবদ নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া বা হাতছাড়া হওয়ার অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে সহকর্মীরা আহত সাহারুল ইসলামকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর পক্ষে ছেলে নাইমুর রহমান লিমন বাদী হয়ে সহকারী অধ্যাপক ও পিয়নসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় পৃথক এজাহার দিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাগুলো ঘিরে কলেজজুড়ে উত্তেজনা ও নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের মধ্যে এমন সংঘাতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ যেন কোনোভাবেই শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত না করে, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পলাশবাড়ী থানার এসআই জুয়েল ঘটনাস্থল কলেজ ক্যাম্পাস ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। পৃথক দুটি অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে আহতরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্তেই বেরিয়ে আসুক প্রকৃত ঘটনা—অভিযোগ নয়, সত্যের ভিত্তিতেই হোক বিচার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *