👁 105 Views

এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে সফলতার আলো ছড়াচ্ছেন নরসিংদীর মেয়ে সিনথিয়া খান মৌমি

২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও সমমান (এসএসসি) পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ (GPA 5.00) অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন নরসিংদীর মেধাবী শিক্ষার্থী সিনথিয়া খান মৌমি। তিনি ঢাকা বোর্ডের অধীনে ঐতিহ্যবাহী ‘নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস্’ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪-২৫) নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করেন।
মোঃ ফরিদ খান ও সালমা বেগম দম্পতির তনয়া সিনথিয়া শৈশব থেকেই মেধার পরিচয় দিয়ে আসছেন। বিদ্যালয় জীবনের ১০ বছর টানা মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থান বজায় রেখেছিলেন তিনি। মাঝে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে (Fracture) গিয়ে বড় বাধা আসলেও নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় দিয়ে সব প্রতিকূলতা জয় করে আবার স্বস্থানে ফেরেন তিনি।
অসাধারণ এই ফলাফলের পেছনে নিজের শিক্ষকদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সিনথিয়া। তিনি জানান, বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শুভ বাকালী স্যারের অনুপ্রেরণায়। এছাড়া বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আসার ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল অপর এক শিক্ষকের। তবে শুধু পড়াশোনাই নয়, পারিবারিক শিক্ষাও তাঁর এই ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন নিজেকে গড়ে তোলার শিক্ষা, মায়ের হাত ধরে শৈশবে শুরু হয়েছিল গান ও চিত্রকলার (Painting, Portrait, Sketch) প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা। আর সব পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে জুগিয়েছেন তাঁর বোন।
সহপাঠ্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে সিনথিয়ার রয়েছে বহুমাত্রিক প্রতিভা। গান, চিত্রাঙ্কন ও বিতর্কের পাশাপাশি মহাকাশ বিজ্ঞান ও ‘Interstellar’ চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবি তোলার প্রতি (Photography) তাঁর গভীর শখ গড়ে ওঠে।
ভবিষ্যৎ ভাবনার বিষয়ে সিনথিয়া জানান, মহাকাশ বিজ্ঞান কিংবা মানবদেহের জটিল গঠন পদ্ধতি—দুই বিষয়ই তাঁকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো পেশা চূড়ান্ত না করলেও তিনি বলেন,
“যে পেশাতেই যাই না কেন, তা যেন আমাদের দেশের জন্য গর্বের কারণ হয়। আজকের এই ফলাফল জীবনের ছোট্ট পরিসর থেকে বড় স্বপ্ন দেখার একটি দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমি এমন এক জায়গায় পৌঁছাতে চাই, যেন আমার প্রিয় মাতৃভূমির এক টুকরো মাটিও গর্ব অনুভব করে।”
নরসিংদীর এই মেধাবী কন্যার সাফল্যে তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *