👁 149 Views

অপপ্রচারের অভিযোগে দিনাজপুরে এনসিপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি জেবউন নেহার নামের এক স্থানীয় নারী থানায় জমি দখলের অভিযোগ করেন।
সেই অভিযোগকে পুঁজি করে এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে একটি ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার অনলাইনে ‘ফুলবাড়ীতে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ ’শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা তাকে এবং তার পরিবারকে জড়িয়ে কল্পিত সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতা।
এরই প্রতিবাদে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও পরিবেশিত সংবাদকে অপপ্রচার ও মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় স্থানীয় হোসেন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি এনসিপি মনোনীত আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী, আমার রাজনৈতিক উত্থানে কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে এবং আমার প্রাণের সংগঠন এনসিপিকে হেয় করতে মিথ্যা অভিযোগে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৬ আগস্ট আমার বাবা চাচার বৈধ ও ভোগ দখলকৃত রাঙামাটি (ছোঁয়ানী) এলাকায় জমিতে দোকান ঘর সংস্কার কাজ করতে গেলে জমি সংক্রান্ত মামলায় পরাজিত জেবাউন নেহার দলবল নিয়ে বাধা দেয়। তার জমির দাগ নং ১৬৪৫ হলেও তারা আমার বাবা-চাচাদের ক্রয়কৃত ১১৪৫ দাগের জমিকে নিজেদের বলেই ইচ্ছাকৃতভাবে গন্ডগোল করছে। এ সময় তার লোকজন দোকান ঘরের খুটি উপরে ফেলে বাধা দেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে আমার বাবা ও চাচা কাজ বন্ধ করেন। কিন্তু আলোচনায় না বসে ওই দিন রাতেই আমার বাবা মোজাহার চৌধুরী, চাচা মোমিনুল চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ চৌধুরী ও আমার নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তারা। ঘটনার সময় আমি ঢাকায় থাকলেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে ও জড়ানো হয়।
গত ১০ আগস্ট বহুল সম্প্রচারিত দেশ টিভির অনলাইনে ‘এনসিপি নেতার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। সেই নিউজে আমার সাথে ওই মিডিয়ার প্রতিনিধি হারুন উর রশিদ কোন রকম সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। ঘটনার আদ্য প্রান্তনা জেনেই এক তরফাভাবে আমাকে এবং এনসিপিকে জড়িয়ে নিউজ করা হয়েছে। এটি মূলত আমার রাজনৈতিক উত্থান ও এনসিপির জনপ্রিয়তা ক্ষুন্ন করার অভিপ্রয়াস মাত্র। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে ওই সাংবাদিকের শাস্তির দাবি জানিয়েছি।
তিনি বলেন, মূলত কিছুদিন আগে পৌর এলাকার কাঁটাবাড়িতে একটি শিশুধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ওই ধর্ষণ চেষ্টার গ্রাম্য সালিশে মধ্য তার উপস্থিতির থাকেন ওই সাংবাদিক হারুন উর রশিদ, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভাইরাল ভিডিওর প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করে স্থাানীয়রাসহ এনসিপি নেতৃবৃন্দ। ওই ঘটনায় আমার প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ তৈরি ওই সাংবাদিকের। সেই আক্রোশের পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয় প্রতিপণ্য করতে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মিথ্যা ঘটনার অভিযোগে সংবাদ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই সাংবাদিক দেশ টিভির লোগো ব্যবহার করে নিজের তৈরি একটি ফেইসবুক পেজে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্মান হানিকর ভিডিও আপলোড করেন। আমার ক্ষেত্রে ও তাই করেছেন। এটি একটি প্রথম সারির ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার লোগোর ও বুমের চরম অপব্যবহার। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আইনগত দিক বিবেচনাধীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী শিহাব হোসেন, সিনিয়র সদস্য আহসান হাবিব, পরিবারের পক্ষে মোজাহার চৌধুরী, মোমিনুল চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ চৌধুরীসহ অনেকে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সাংবাদিক হারুন উর রশিদ বলেন, আমি থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে নিউজ করেছি । এনসিপি নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ যেহেতু অভিযুক্ত তাই তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি। তবে সংবাদে অভিযুক্ত মোমিনুল চৌধুরীর বক্তব্য দেওয়া রয়েছে। যেহেতু তিনি রাজনৈতিক নেতা নিউজে তার রাজনৈতিক পরিচয় থাকবে এটিই স্বাভাবিক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *