👁 464 Views

মহম্মদপুরে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও’র অপসারণ দাবি, বিএনপির একাংশের মিছিল-সমাবেশ অন্যপক্ষের দাবি ভিত্তিহীন আন্দোলন

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রীর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপির একটি অংশ। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা গৃহীত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারি বিএনপির নেতাকর্মীরা “ঘুষখোর ইউএনও”, “পালাইছে রে পালাইছে, ইউএনও পালাইছে!” সহ নানা ধরনের স্লেগান দেন। এ সময় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু, সাবেক সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুর আমিন সজিব শিকদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো.পারভেজ প্রমুখ।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু অভিযোগ করে বলেন, ‘মহম্মদপুরের ইউএনও গোপনে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা ইউএনও মহোদয়কে আগেই বলেছিলাম যেন সঠিকভাবে যোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের অঙ্গসংগঠনের অভিজ্ঞ নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরীর অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। মহম্মদপুরে কৃষকদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ মিছিল শেষে আহাদ-সুমন চত্বরে সমাবেশে অপর পক্ষের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক মৈমুর আলী মৃধা বলেন, সঠিক পক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারকে সহযোগিতা করছেন। দলেরই একটি সুবিধাবাদী অংশ সরকার এবং স্থানীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরীকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, কেবল তাঁদেরকেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে রাখা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। দুই পক্ষের অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র রাজনৈতিক কৌতুহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্ঠি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *