
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রভাবশালীরা সরকারি রাস্তায় বাঁশ ও গাছের খুঁটি গেঁড়ে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ১৫ পরিবারের সদস্যদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে-এমন সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও এর নির্দেশে সার্ভেয়ার দিয়ে রাস্তার সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের মধ্যম কাইচ্ছুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ইউএনও কার্যালয়ে ভুক্তভোগীদের দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আলকরা ইউনিয়নের কাইচ্ছুটি মৌজার ১নং বিএস খাস খতিয়ান ভূক্ত ১০৪৬ দাগে ১৪ শতক ভুমি দীর্ঘ বছর ধরে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সম্প্রতি একই গ্রামের প্রভাবশালী মোঃ অহিদুর রহমান ইচ্ছাকৃতভাবে চলাচলের রাস্তার মধ্যে বাঁশ ও গাছের খুঁটি গেঁড়ে বেড়া নির্মাণ করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে সরকারী রেকর্ডভূক্ত রাস্তায় স্থানীয় লোকজন, ছাত্র-ছাত্রী ও অসুস্থ রোগী এবং এ্যাম্বুলেন্স চলাচলে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়াও দৈনন্দিন কাজে যেতে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ইউএনও শাহাদাৎ হোসেনের নিকট লিখিত অভিযোগের পর তিনি আলকরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশরকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। প্যানেল চেয়ারম্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, কাজী মোঃ ওবায়েদ ইবনে ওমর গং কর্তৃক আবেদনকৃত অভিযোগের জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। রাস্তার জায়গাটি বিএস জরিপে নকশার রাস্তায় কোন জরিপ হয়নি। কিন্তু ভূমি অফিস জানায়, ওই রাস্তার পাশে বিএস জরিপে লম্বা একটি দাগ আছে, ওই দাগের নাম্বার ১০৪৬ এবং জায়গার পরিমাণ ১৪ শতক। রাস্তার দক্ষিণ পাশে খায়েজ আহমদ ভূঁইয়া গংয়ের জমি, উত্তর পাশে নইলা নামে একটা পুকুর আছে। পশ্চিম পাশে অহিদুর রহমান নামক ব্যক্তির জমি ও পুকুর পাড়। দাগের জায়গা কোন ব্যক্তির নামে বিএস রেকর্ড হয়নি। ফলে জায়গাটি ডিসির নামে অর্থাৎ খাস হিসেবে থেকে যায়। রাস্তাটি অনেক বছর আগের এবং মানুষের চলাচল ছিল। রাস্তাটি ৮ ফুট প্রস্থের হলেও তাঁর চার ফুট অহিদুর রহমান ও খায়েজ আহমদ ভূঁইয়ার ভাই সেলিম ভূঁইয়া বাঁশের বেড়া দেয়ায় বর্তমানে তা ৪ ফুটে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ ইউএনও এর নির্দেশে মঙ্গলবার সার্ভেয়ার সাইদুর রহমান, আলকরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী সাখওয়াত হোসেন এবং ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মাফা হয়। এখন রাস্তার জায়গা দক্ষিণ পাশের জমিতেও রয়েছে হিসেবে সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। রাস্তার সীমানা নির্ধারন করে দেয়ায় ভূক্তভোগী ১৫ পরিবার ইউএনও’কে ধন্যবাদ জানান।