👁 48 Views

ঠিকাদার উধাও, শ্রীপুরের সড়কে রোপণ!

‎আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর): ‎​গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে অসমাপ্ত সড়কের গর্তে ধানগাছ রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

‎​সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর ও রড। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে একাকার হয়ে আছে। এতে করে মোটরসাইকেল, রিকশা ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

‎​স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগী এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে যান চলাচল এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

‎​ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন জানান, বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। এতে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘মাত্র ২৬০ মিটার রাস্তার জন্য পুরো এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

‎​কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া ও অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের জানান, সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে। কাজ বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারও অর্ধেকে নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্প কিছু শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

‎​শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজটি বাস্তবায়ন করছে ‘শাম্মী এন্টারপ্রাইজ’। প্রকল্পের আওতায় ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত সময়সীমা ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে।

‎​এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ শেষ হয়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‎ প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *