
মোসাব্বর হাসান মুসা স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার (রহ.)-এর মাজারের উন্নয়ন কাজে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বাধার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী, তৌহিদী জনতা ও মুসুল্লিগণ। এর প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার (২৩ জুন, ২০২৬) মহাস্থানগড় এলাকায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল, মহাস্থান জাদুঘর ঘেরাও এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় মাজার কমিটি, এলাকাবাসী, ভক্তবৃন্দ এবং ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঐতিহাসিক এই মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এখানে মহিলাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কিছু কাজের বিশেষ প্রয়োজন। আর সেই মাজারের কাজ শুরু করতেই বাঁধা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মাজারের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রাচীন কীর্তি রক্ষার অজুহাতে বারবার কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মাজারের অতি প্রয়োজনীয় এবং জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কাজে নিয়মতান্ত্রিক বাধা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কর্মসূচির প্রস্তুতি বিষয়ে স্থানীয় মহাস্থান মাজার মসজিদ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মাজারের উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একঘেয়েমি ও বৈরী আচরণের কারণে মাজারের উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টায় মহাস্থান মাজার এলাকা থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। মিছিলটি মহাস্থান জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে এবং সেখানে অবস্থান ধর্মঘট ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান এর নিকট পেশ করব।”
এদিকে, এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মহাস্থানগড় ও আশেপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি চলছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মহাস্থানগড় একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা। ১৯০৪ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ আইন এবং দেশের প্রচলিত প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী কাজের নিষেধ করা হয়েছে। তারা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয় আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামীকালকের কর্মসূচির পর যদি মাজারের উন্নয়ন কাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা প্রত্যাহার করা না হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেন।