👁 415 Views

ভালুকায় নিষিদ্ধ থ্রি হুইলারের রহস্যজনক কারণে মহাসড়কের চলাচল

ভালুকা প্রতিনিধি ময়মনসিংহের ভালুকায় নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার যানবাহনের অবাধ চলাচল নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাসোহারার বিনিময়ে এসব যানবাহন চলাচলের অভিযোগ থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে প্রায় সহস্রাধিক নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করলেও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলার অভাবে প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে।
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের প্রজ্ঞাপন থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল অব্যাহত রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কে ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা, নসিমন, করিমন ও অন্যান্য ধীরগতির তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। এসব যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় আদালত ও সরকার একাধিকবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলেও স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় কতিপয় ব্যক্তি, তথাকথিত ও নামদারী মিডিয়াকর্মী এবং অসাধু প্রভাবশালীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশে মাসোহারার বিনিময়ে এসব যানবাহন চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকার মাস্টারবাড়ি সীমান্ত থেকে ভরাডোবা সীমান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত থ্রি-হুইলার নিয়মিত চলাচল করছে। এসব যানবাহন থেকে মাসিক হারে অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের দাবি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রতি ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। মাসোহারার এই অর্থ একটি চক্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভালুকা পৌরসভার মুচি ভিটা, মেজরভিটা, টিএন্ডটি রোডসহ শিল্পাঞ্চল হবিরবাড়ি ও মাস্টারবাড়ি এলাকায় বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ যানবাহনের গ্যারেজ রয়েছে, ওসব গ্যারেজে অটোরিকশার ব্যাটারী চার্জ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধূ ব্যক্তিদের যোগসাজশে অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে ব্যাটারী চার্জ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুধু ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কই নয়, উপজেলার ভালুকা-রাজৈ, ভরাডোবা-সাগরদীঘি, ভালুকা-ডাকাতিয়া, ভালুকা-গফরগাঁও, সিডস্টোর-কাচিনা এবং সিডস্টোর-ঝালপাজা আঞ্চলিক সড়কেও কয়েক হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এসব যানবাহনের কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে অবাধে চলাচলকারী এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী কোনো ফল বয়ে আনছে না। বরং অভিযানের কিছুদিন পরই আগের অবস্থায় ফিরে যায় পরিস্থিতি। ফলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এর পেছনে প্রভাবশালী কোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মাসোহারা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক থেকে নিষিদ্ধ যানবাহন অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তও জরুরি।
এ ব্যাপারে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি মো: খোরশেদ আলম জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে তিনি জুরালো প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন। গত ১৫ দিনে তিনি রেকারসহ নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৭৫ টি মামলা দিয়েছেন। তাছাড়া মাসোহারার বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *