👁 434 Views

সাঁথিয়ায় গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যা-স্বামী গ্রেপ্তার

সাঁথিয়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি ইউয়িনের চরপাড়া গ্রামে রোমেনা খাতুন(৩৫)নামে এক গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যা করেছে তার পাষন্ড স্বামী আব্দুর রহিম(৪৫)।আব্দুর রহিম চরপাড়া গ্রামের রইজ মোল্লার ছেলে এবং নিহত গৃহবধূ একই ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামের মরহম আলীর মেয়ে।গতকাল সোমবার(২নভেম্বর)রাত সারে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় মঙ্গলবার(৩নভেম্বর)প্রবাস ফেরৎ অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিমকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে সাঁথিয়া থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। সেখানে ৬ বছর থাকার পর বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকেন।প্রায় দুই মাস হলো ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।গতকাল সোমাবার নিহত রোমেনা খাতুন তার বাবার বাড়ি মাঝে মধ্যে টাকা পাঠান এ নিয়ে তার স্বামী আব্দুর রহিমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়।কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আব্দুর রহিম তার স্ত্রী রোমেনা খাতুনকে গলা টিপে হত্যা করে।

নিহতের স্বামী আব্দুর রহিম হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন,আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় আমার আয়ের বেশির ভাগ টাকা আমার স্ত্রী তার বাবার বাড়ি পাঠায়।গতকাল সোমবার সে আমাকে না জানিয়ে গচ্ছিত ১৩ হাজার টাকা আবারো তার বাবার বাড়ি পাঠায়। টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে তার সাথে আমার ঝগড়া হয়।এনিয়ে আমি তাকে একপর্যায়ে গলা টিপে ধরলে সে মারা যায়। তবে আমি জানতামনা গলাটিপে ধরায় সে মারা যাবে।

নিহত রোমেনা খাতুনের বাবা মরহম আলী জানান,গতকাল সোমবার আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে যাই।আমার মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তারা আমাকে জানান এবং তাকে দাফনের প্রক্রিয়া করতে থাকেন। কিন্ত মেয়ের গোসলের সময় তার গায়ে মাইরধর ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে আমার সন্দেহ হলে থানা পুলিশকে খবর দেই।ঘটনাস্থলে এস পুলিশ ঘটনার সত্যতা পান। থানা পুলিশ আব্দুর রহিমকে জিজ্ঞেস করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।আমার মেয়ের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমার নাতিদের এখন কি হবে? আমি আমার মেয়ের হত্যা বিচার চাই এবং হত্যাকারীর ফাঁশি চাই।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং নিহতের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করলে তাকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।