
লিমন হায়দারঃ একটি ক্যাপিটেশন গ্রান্ড প্রাপ্ত মাদ্রাসার চিত্র দেখে চোখ ছানা বড়া হবার উপক্রম।সরকার মাদ্রাসাটিতে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রতি মাসে বরাদ্দ রেখেছেন ৯৬ হাজার টাকা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,ওই মাদ্রাসায় মোট আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে ৪ জন।সেই ৪ জন শিক্ষার্থীর খাবারের মানও ভালো না।এদের পড়ালেখার দায়িত্বে রয়েছেন একজন শিক্ষক।
বলছি দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর উত্তর কৃষ্ণপুর হাজী মনা মন্ডল ফুরকানিয়া হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার কথা।প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এমএ মতিন রহমান।
কথা হয় দায়িত্বে থাকা একমাত্র শিক্ষক মুহতামিম মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি জানান,বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন ৪ জন।আরো দু’জন রয়েছেন ছুটিতে।৪৮ জন শিক্ষার্থীর টাকা উত্তোলন হয় এটাও আমি জানিনা।কারণ কোথাও স্বাক্ষরও আমার নেয়া হয় না।এসব কিছু দেখভাল করেন এমএ মতিন রহমান নিজেই।যেহেতু ৪জন বা ৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪৮ জনের যে টাকা উত্তোলন হয় এটিকে পুকুর চুরি নয়-এটিকে সাগর চুরি বলা যেতে পারে।এই মাদ্রাসায় একজন শিক্ষককে তিনি বেশিদিন রাখেন না।৬ মাস বা ৮ মাসের মধ্যেই শিক্ষকদের বের করে দেয়া হয়।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বলবঃএই সাগর চরির তদন্ত হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচানো উচিত।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এখানে নিয়মিত ভালো খাবারও পরিবেশন করা হয় না।
স্থানীয়রা জানান,ইতিপূর্বে এখানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ভালো ছিল।খাবার তো ভালো সরবরাহ করা হয় না,পড়ালেখার মানও ভালো না।ওনার আরো একটা বদ অভ্যাস আছে!উনি ঘনঘন শিক্ষক বদলান।এম এ মতিনের মনের সাথে মিল না হলে ওই শিক্ষককে তিনি বেশিদিন রাখেন না।এতে করে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক এমএ মতিন জানান,বিগত ঝড়ে মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষতি হয়।এজন্য অনেক শিক্ষার্থী চলে গেছে মাদ্রাসা থেকে।এই ঘটনায় মাদ্রাসায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারিনি।
এই বিষয়গুলি উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে জানানো হয়েছে।সরকারিভাবে আপনার মাদ্রাসায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮ জনের।অথচ আপনার মাদ্রাসায় সর্বমোট শিক্ষার্থী উপস্থিত আছেন ৪ জন।এই তথ্যটি কি অফিসকে আপনি নিশ্চিত করেছেন?এ সময় তিনি এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে গত ১৭ই অক্টোবর শনিবার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন,ফুলবাড়ীতে মোট ২৮টি ক্যাপিটেশন গ্রান্ড প্রাপ্ত মাদ্রাসা আছে।এর মধ্যে বেশকিছু মাদ্রাসার অনিমের খবর পেয়েছি আমরা।এছাড়াও উত্তর কৃষ্ণপুর মাদ্রাসায় আপনাদের মাধ্যমে আমরা একটি বড় ধরনের অনিয়মের খবর পেয়েছি।পূর্বের অফিসারের সুপারিশে ওই টাকা উত্তোলন করেছেন তারা।ওই বরাদ্দটি আমার সুপারিশে নয়।আমার সুপারিশে টাকা পাবে আগামী ডিসেম্বরে।যা
হোক আমাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত আছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ধরা পড়বে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।