👁 419 Views

আত্মগোপনে থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, এসপি কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার দেবদাস রায় বাবুল

এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবদাস রায় বাবুলের বিরুদ্ধে আত্মগোপনে থেকেও বিভিন্নভাবে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১টার দিকে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ থানার মামলা নং-২০, তারিখ ১২/১১/২০২৫-এর ঘটনায় দেবদাস রায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী ও নাশকতা সংক্রান্ত বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে লালমনিরহাট বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে আগের মতোই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তুষভান্ডার ইউনিয়নের ক্যাপ্টেন মোড় এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম বিপুল, রবিউল ইসলাম চঞ্চল ও সুবোধ চন্দ্র রায় দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ক্ষমতার প্রভাবের শিকার হয়েছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে আগের মতো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

উত্তর ঘনেশ্যাম মৌজার ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে অভিযোগ

অন্যদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘনেশ্যাম মৌজার ৪৮৪০ দাগের ৪০ শতাংশ জমি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমিটি মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে নূর মোহাম্মদ বিপুলের ভোগদখলে রয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ওই ভোগদখলীয় জমি প্রশাসনিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমিটির দলিলপত্র, খতিয়ান, দাগ নম্বর, নামজারি ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও দখল নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে জমি দখলের চেষ্টা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ক্যাপ্টেন মোড়ের মার্কেটের জায়গা নিয়ে বিরোধ

তুষভান্ডার ইউনিয়নের ক্যাপ্টেন মোড় এলাকায় একটি মার্কেট ও জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি উভয় পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। বর্তমানে ওই মার্কেটের মালিকানা ও দখল নিয়ে এক পক্ষ একক মালিকানা দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গার কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে যাতে কোনো পক্ষ সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডিবি কার্যালয়ে তদবিরের অভিযোগ

এদিকে দেবদাস রায় বাবুলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে ডিবি কার্যালয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির ও সুপারিশ চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে তার মুক্তির জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগ ও তদবিরের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে ডিবি কার্যালয়ে তদবিরের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগটিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দেবদাস রায় বাবুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, জমি ও মার্কেট সংক্রান্ত বিরোধ এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।