👁 237 Views

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী লিংকনকে ঘিরে গাইবান্ধায় উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দ ও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জের মানুষ এ অর্জনকে নিজেদের গর্ব হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা—মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে লিংকন গোটা গাইবান্ধার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে শপথ গ্রহণের পর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহর ও লিংকনের গ্রামের বাড়ি মহিমাগঞ্জে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও স্বজনরা। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রেজানুল হাবীব রফিক, বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন পাতা ও রফিকুল ইসলাম রফিক।
চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াতে ইসলামী জয় পেলেও গোবিন্দগঞ্জ আসনটি বিএনপির দখলে রাখেন শামীম কায়সার লিংকন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে দলীয় রাজনীতিতে তার সাংগঠনিক অবস্থান ও নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় আসন। আয়তনে জেলার বড় আসনগুলোর একটি এবং মহাসড়ককেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীকে পেছনে ফেলে জয় পান লিংকন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নায়েবে আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার।
রাজনীতিতে লিংকনের পারিবারিক পরিচিতিও রয়েছে। তার বাবা আবদুল মোত্তালিব আকন্দ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পর ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য হন শামীম কায়সার লিংকন। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হলেও দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে আবারও সংসদে ফেরেন তিনি।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে লিংকন লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। জানা-অজানা অসংখ্য মানুষের দোয়া, অশ্রু ও চেষ্টার ফলাফল।’ এরপর রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের শুভেচ্ছায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দনের ঢল নামে।
গাইবান্ধা সদরের সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদ হাবীব সোহেলও লিংকনকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল, মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণে নতুন দায়িত্বকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, মন্ত্রিসভায় গাইবান্ধার একজন প্রতিনিধি থাকায় জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-সংকট ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন তাদের প্রত্যাশা—দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধার সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *