👁 521 Views

রাজারহাটে শিশুকে নাতনি ডেকে চিপসের প্রলোভনে যৌন নিপীড়ন,মন্দির কমিটির সভাপতি জেলহাজতে

রাশেদুল ইসলাম,রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ॥ কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় শনিবার দিবাগত ৫জুলাই (রবিবার) রাতে রাজারহাট থানায় এজাহার দায়েরের পর অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে সকালে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের কুমারগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় ভুক্তভোগী শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা (দাদু) হন। এই পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। চকলেট, চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায়শই তিনি শিশুটিকে কোলে নেওয়া বা দোকানে নিয়ে যাওয়ার বাহানায় নিজের কাছে ডাকতেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অবুঝ শিশুটিকে ফুসলিয়ে তিনি প্রায়ই নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং হাত-পা টিপিয়ে নেওয়ার অজুহাতে তার ওপর বিকৃত যৌন নিপীড়ন চালাতেন। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
সর্বশেষ গত ১৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিজ ঘরে নিয়ে যান। সেখানে হাত-পা টেপানোর একপর্যায়ে শিশুটির ওপর চরম যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় শিশুটি প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথায় চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত বৃদ্ধ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য কঠোর হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। নির্যাতনের শিকার শিশুটি বাড়িতে ফিরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। একপর্যায়ে মায়ের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া দীর্ঘদিনের পাশবিক নির্যাতনের বিবরণ দেয়।
পরে শিশুর মা চট্টগ্রামে কর্মরত তাঁর স্বামীকে বিষয়টি অবহিত করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ ও স্বজনদের সিদ্ধান্তের কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং ধর্মীয় উপাসনালয় কমিটির সভাপতির এমন বিকৃত লালসার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু নির্যাতনের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *