👁 63 Views

বাঘার সাদিয়া ৪৭তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডার হলেন

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামের মেয়ে মোসা: সাদিয়া আফরিন। বাবা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মা’ হাসিনা আহমেদ। স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রের সেবায় কাজ করার। দীর্ঘ প্রস্তুতি, ধৈর্য আর নিরলস পরিশ্রমের সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ৪৭ তম বিসিএসে তিনি তথ্য ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে হিসাবে সাদিয়ার এই সাফল্যকে সবাই ইতিবাচক হিসাবে মন্তব্য করছেন।

সাদিয়া আফরিন ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। কলেজজীবন থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য। অবশেষে দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতা মূলক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করে তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজ এলাকার মানুষের গর্বে পরিণত হয়েছেন।

বাংলাদেশের অসংখ্য মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো সাদিয়াদের পরিবারও বিশ্বাস করেছে শিক্ষা-ই পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে। সেই বিশ্বাসকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি এগিয়ে গেছেন নিজের লক্ষ্যের পথে। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয় ; এটি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বড় স্বপ্ন দেখার সাহসী তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার গল্প।

সাদিয়ার সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের পক্ষ্য থেকে অধ্যক্ষ মো: নছিম উদ্দিন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার কর্মজীবনের সর্বাঙ্গীণ সফলতা ও কল্যাণ কামনা করে। সাদিয়া যেনো তার কর্ম জীবনে আরো উচ্চ পর্যায়ে আশিন হতে পারেন।

নতুনপাড়া গ্রামের এই মেধাবী তরুণীর অর্জন প্রমাণ করে, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে সাফল্যের পথ কখনোই দূরে থাকে না। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি বিসিএস ক্যাডার অর্জনের গল্প নয়; এটি নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করার বার্তা বহন করে।

সাদিয়ার সাফল্য অর্জনকে কেন্দ্র করে তার বাবা গিয়াস উদ্দিন বলেন, আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করছি। সাদিয়া ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী ও লক্ষ্যনিষ্ঠ ছিল। আমরা সবসময় তাকে সৎভাবে পড়াশোনা করতে এবং মানুষের জন্য কাজ করার শিক্ষা দিয়েছি। আজ তার এই অর্জন আমাদের পরিবারের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এলাকার মানুষের জন্যও আনন্দের। আমি বিশ্বাস করি, সে একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে দেশের সেবা করবে। পাশাপাশি আমি সব অভিভাবকদের বলব, সন্তানদের ওপর আস্থা রাখুন, তাদের স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করুন। আন্তরিক চেষ্টা ও অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য অবশ্যই আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *