
কুষ্টিয়াপ্রতিনিধি ; কুষ্টিয়ার জুগিয়া গোপিনাথপুর গড়াই নদীর ড্রেজিং করা বালি অপসারণ বরাদ্দ দেয়াকে কেন্দ্র করে চলছে সংঘর্ষ ও গুলাগুলি। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে অনেকেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার দুর্ণীতি ও অনিয়মের কারনেই প্রকৃত ঠিকাদার বালি অপসারণ কতে পারছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর চরমপন্থি সন্ত্রাসী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট যুবলীগ নেতা মহিদুল ইসলাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ভুমি ও রাজস্বের সহকারী পরিচালকের যোগ সাজসে বালি মহল দখল নিলে, বালি মহলে একের পর এক সংঘর্ষে লিপ্ত হলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে নিরব।
জানা গেছে, গত ১০ডিসেম্বর ২০২৫ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সরকারী ডাক দিয়ে ওই বালি মহল টেন্ডার আহবান করেন। এই টেন্ডারে মেসার্স বসির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৬ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার দর দিয়ে সর্বচ্চো দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। মেসার্স বসির এন্টার প্রাইজ সবর্চ্চো দরদাতা হয়ে ওই দিনই ১ কোটি ৭১ লাখ ৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার পানি উন্নয়ন বোর্ড অনুকুলে জমা দেন। এর ফলে ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে রেজুলেশন করে করা হলে ওই দিন ৭০ লাখ টাকার আরেকটি পে-অর্ডার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রদান করা হয়। বসির এন্টারপ্রাইজ ১৫ জানুয়ারী বালি মহল থেকে বাসি অপসারণের জন্য রাস্তা তৈরীর কাজও শুর করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টায় ৮০ লাখ টাকার আরেকটি পে-অর্ডার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুকুলে জমা দেয়ার পর ওই দিনই বেলা ২টার দিকে একজন ম্যাসিস্ট্রেন এসে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন এবং ঠিকাদারী পুতষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এসময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ম্যাজিষ্ট্রেটকে প্রতিবাদ করলে ম্যাজিষ্ট্রেট সরাসরি জানিয়ে দেয় উপর মহলের নির্দেশেই কাজ বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনা নিষ্পত্তি করতে ১৭ মে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকারের উপ-সচিব ডিডিএলজিকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন ৪৫ কার্য দিবসের মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কমিটির নির্দেশ মোতাবেক বসির এন্টারপ্রাউজ ২৩ মে ১ কোটি টাকার পে-অর্ডার জমা দেন। মোট টাকার ২ কোটি ৭৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা বয়েকা থাকে।
অথচ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মেহেদী এন্টার প্রাইজের মালিক মহিদুল ইসলাম বিগত দিনে ৩ কাটি ১৫ লাখ টাকার বালি মহল ১ বছর ধরে ১৩টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ২ কোটি ৭৭ লাখ জমা দিলে তার অনুকুলে বালি মহলের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা মহিদুলকে বিনা টেন্ডারে আরো ২ বছরের বালি উত্তোলনের সুযোগ করে দেয়া হয়। সে সময় মহিদুল একটি টাকাও সরকারী কোষাগারে জমা করেননি। যা ছিল সম্পন্ন অবৈধ। এদিকে বসির এন্টারপ্রাইজ পুর্বের চেয়ে ৪ কোটি ১১ লাখ ৫ হাজার টাকা সরকারী রাজস্ব জমা দিয়েও বালি অপসারণের কোন সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে না।
এদিকে মহিদুল ৩ বছর অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের পরেও বালি মহল নিয়ন্ত্রনে রাখতে হাই কোর্টে একটি রীট করেন। হাই কোর্ট থেকে একটি আদেশ দেয়া হয় স্থানীয় জেলা প্রশাসন যে, তিনি নীজ স্বাধীনভাবে ২১ মে ২৫ তারিখের মধ্যে ষিয়টি নিষ্পত্তি করবেন। এই আদেশের বলে পর পর ২জন জেলা প্রশাসক হাই কোর্টের এই আদেশ মৌখিক ভাবে বাতিল করে দেন । পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন এসে ১২ জানুয়ারী ২৬ তারিখে বসির এন্টার প্রাইজের রেজুলেশনের উপর লিখিতভাবে হাই কোর্টের আদেশ বাতিল করে দেন এবং বলেন মেহেদী এটার প্রাইজকে সময় বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। এদিকে ১৮ মে ২০২৬ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের আদেশ অমান্য করে মহিদুল ইসলামের মেহেদী এন্টার প্রাইজকে ৭ মাসের অবৈধ সময় দিয়ে বালি অপসারণ করার সুযোগ করে দেয়া হয়। অথচ মহিদুল ৩১ অক্টোবর ও ২৬ নভেম্বর ২০২৪ এপ্রিল তারিখে দুইটি পত্র দিয়ে বালি অপসারনের অপারগতা স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ২টি পত্র প্রদান করেন।
এতে করে প্রকৃত ঠিকাদার মেসার্স বসির এন্টার প্রাইজ এখন আর বালি অপসারণ করতে পারছে না। বালি অপসারণ করতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের একদিকে বাধঅ সৃষ্টি অপরদিকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মার ধর ও গুলাগুলিতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে এলাকায় বড় ধরনের দূর্ঘটা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী সাথে একাধিক বার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।