
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: দৈনিক মানবজমিন-এ অসহায় আ. রহমানের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। মানবিক এ উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বিষহ জীবনযাপন করা পরিবারটি এখন একটি নিরাপদ আশ্রয়ের আশা দেখতে শুরু করেছে।
গত ১৬ এপ্রিল দৈনিক মানবজমিন-এ প্রকাশিত ‘নাজিরপুরে ছেঁড়া ছাউনির নিচে বেঁচে থাকার লড়াই’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নাজিরপুর উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের রামভদ্রা গ্রামের বাসিন্দা আ. রহমান ফকিরের পরিবারের করুণ জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী-এর নজরে এলে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, রামভদ্রা গ্রামের মৃত আ. গনি ফকিরের ছেলে আ. রহমানের পুনর্বাসনের জন্য ঢেউটিন, গৃহনির্মাণের জন্য নগদ সহায়তার চেক এবং শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১১টায় নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব অনুদান ও সহায়তাসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন, নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ তরিকুল ইসলাম,উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আ. রাজ্জাকসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন আ. রহমান। তার বসতঘরটি ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাউনির ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ত। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভেজা মেঝেতে রাত কাটানো ছিল পরিবারটির নিত্যদিনের বাস্তবতা। একটি নিরাপদ ঘরের অভাবে পরিবারটি প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন পার করছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় পরিবারটির নতুন ঘর নির্মাণের পথ সুগম হয়েছে।
এদিকে একই কর্মসূচির আওতায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের মধ্যেও ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ সহায়তার অর্থ এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে গৃহনির্মাণের চেক, ঢেউটিন এবং নগদ সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।
উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছেন হোগলাবুনিয়া গ্রামের মো. ফেরেশতালী শিকদারের ছেলে মো. পান্না মিয়া, চালিতাবাড়ী গ্রামের আউয়াল শেখের ছেলে আবেদ আলী শেখ এবং বুড়িখালী গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে ইমাম হোসেন। তাদের প্রত্যেককে দুই বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৬ হাজার টাকা করে গৃহনির্মাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সহায়তা পেয়ে আ. রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের দুর্দশার কথা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা না হলে হয়তো এত দ্রুত সহায়তা পাওয়া সম্ভব হতো না। তারা সংসদ সদস্যের প্রতি ও গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।