
এ কে এম আব্দুল্লাহ, নেত্রকোনাঃ নেত্রকোনায় নিজ বাসার ভেতরে মনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা ও স্বামী এবং ছেলেকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে মাদকাসক্ত এক রিক্সা চালক।
হৃদয় বিদারক এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পৌর শহরের কাটলী এলাকার একটি চারতলা বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক আব্দুর রশিদকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মনোয়ারা বেগম কাটলী এলাকার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রী ও সাব টিকাদার আবু চান মিয়ার স্ত্রী। আটক ঘাতক আব্দুর রশিদ(৩০) তারই প্রতিবেশী আরশাদ মিয়ার পুত্র।
হামলায় গুরুতর আহত আবু চান (৬০) ও তার ছেলে আবির হোসেন মুন্নাকে (২৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুন্নার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
নিহতের মেয়ে লিজা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, রাত ৯টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে প্রধান দরজা খোলা পান। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পান তার বাবা ও ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছটফট করছেন। এ দৃশ্য দেখে লিজা ডাক চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে ঘাতক
রশিদকে ঘরের ভেতর আটকে ফেলে। পরে ঘরের ভেতরের খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লিজা আরো জানান, আব্দুর রশিদ তাদের প্রতিবেশী ও পূর্ব পরিচিত। সে প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বাসায় এসে মায়ের কাছ থেকে টাকা ধার নিতো। তবে তার আচার আচরণ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আগে থেকেই আপত্তি ছিল।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বরাদ দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলাকারী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং লাশ খাটের নিচে লুকানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় ছেলে মুন্না ঘরে ঢুকলে রশিদ তাকেও কুপাতে শুরু করে। ছেলের আর্তচিৎকার পিতা আবু চান এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে আহত হয়। এ সময় মেয়ে লিজা বাসায় এসে এ দৃশ্য দেখে ডাক চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘাতক রশিদকে বাসার ভেতরেই আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে তাদের হেফাজতে নেয়। তিনি আরো জানান, ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।