👁 325 Views

নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন করসহ ২৬৮ বিলিয়ন ডলারের বাজেট চুক্তি

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের নেতৃত্বাধীন নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য প্রশাসন ২৬৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে নিউ ইয়র্ক সিটিতে দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যের জলবায়ু আইনও কিছুটা শিথিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ চুক্তির মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক সিটির ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের দুই বছরের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাজেট আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়টি বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
প্রস্তাবিত ‘শহরের ছোট বাসা ‘বা দ্বিতীয় বাড়ির কর মূলত নিউ ইয়র্ক সিটিতে বসবাস না করেও সেখানে দামী সম্পত্তির মালিক ধনী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে। তবে করটি কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
গভর্নর হকুল জানান, ডেমোক্র্যাট নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে। তবে কার্ল ই. হেস্টি বলেন, বাজেট চুক্তিটি তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে এবং তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সম্মতি দেননি।
গত এপ্রিল মাসে হকুল প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নিউ ইয়র্ক সিটিতে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর এই কর আরোপ করা হবে, যা থেকে বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে।
তিনি বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটির সম্পত্তি কর নির্ধারণ পদ্ধতি ‘অদ্ভুত ধরনের’ হওয়ায় নতুন কর কাঠামো নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে শহরের অর্থ বিভাগ কনডো ও কো-অপ অ্যাপার্টমেন্টের কর নির্ধারণ করে তাদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে নয়, বরং আয় উৎপাদনের সম্ভাবনার ভিত্তিতে। ফলে বহু বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের করমূল্য প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের তুলনায় অনেক কম নির্ধারিত হয়।
হকুল জানান, বর্তমানে ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কোনো সম্পত্তির করমূল্য মাত্র ৭ মিলিয়ন ডলার হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে।
এদিকে, নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ধনী ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবহৃত ‘পাস-থ্রু এন্টিটি ট্যাক্স ক্রেডিট’ কমানোর শেষ মুহূর্তের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে হকুল তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বাজেট চুক্তিতে নিউ ইয়র্ক সিটির জন্য ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পরিচালন সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা শহরের বাজেট সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া আবাসন উন্নয়ন দ্রুততর করতে পরিবেশগত পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় কিছু ছাড় দেওয়া এবং আবাসিক খরচ কমাতে বীমা পরিশোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *