
এম সাজেদুল ইসলাম (সাগর) নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে এক স্কুলছাত্র ও তার বন্ধুকে আটকে রেখে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রের বাবা মো: কলিম উদ্দিন বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯নং কুশদহ ইউনিয়নের সেনিকপাড়া গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় খালিশপুর আকালীবাড়ী স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মো: রাহেদুল ইসলাম (১৫) গত ৩০ অক্টোবর তার বন্ধুদের সাথে একই এলাকার নওশাদ আলীর মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে যায়। সেখানে কনের বান্ধবী নুসরাত তার মোবাইল ফোনটি চার্জে দেওয়ার জন্য রাহেদুলের কাছে দেয়। পরে নুসরাতের ফোন হারিয়ে গেলে তা খোঁজাখুঁজি করা হয়। একপর্যায়ে জানা যায়, মোবাইলটি মো: সিহাব নামের এক যুবকের কাছে রয়েছে, যা নুসরাত নিজেই তাকে পাঠিয়েছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার ১নং বিবাদী মো: টুটুল ইসলাম (৩২) ও ২নং বিবাদী মো: আরাফাত (২০) সহ কয়েকজন যুবক রাহেদুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়। গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬:০০ ঘটিকায় রাহেদুল খালিশপুর হাইস্কুল মাঠে থাকলে বিবাদীরা জোরপূর্বক তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। এরপর রাত আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকায় চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রাহেদুল এবং ঘটনার বিষয়ে প্রমাণ দিতে যাওয়া তার বন্ধু মো: পারভেজকে কৌশলে ডেকে নিয়ে কুশদহ ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক বসতবাড়ির পাশে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাত আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকায় বিবাদী টুটুল ইসলামের হুকুমে অন্য বিবাদীরা রাহেদুল ও পারভেজকে বিবস্ত্র করে তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানসহ বিভিন্ন জায়গায় লাঠি ও ডাল দিয়ে এলাপাতাড়ি মারধর করে। নির্যাতনকারীরা তাদের মুখের মধ্যে নিজেদের পায়ের জুতো ও পা ঢুকিয়ে দেয় এবং ১নং বিবাদী টুটুল ইসলাম রাহেদুল ও পারভেজের গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে রাহেদুল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিবাদীরা তাকে মাথা নিচের দিকে দিয়ে পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে চুবিয়ে ধরে নির্যাতন করতে থাকে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ৪ নভেম্বর সকালে বিবাদীরা রাহেদুলকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা তাকেও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই লোমহর্ষক ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।