👁 348 Views

ঘোড়াঘাটে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক গ্রেপ্তার

 

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি বিক্রি ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনায় প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ, চাঁদা নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ উজ্জ্বল মিয়া (৪১) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিফাত কবীর (২৩) ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রিফাত কবীর ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য মিশরে যান। ২০২৫ সালে দেশে ফিরে নিজ এলাকায় উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উজ্জ্বল মিয়া নিজেকে গরুর খামার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ঘোড়াঘাটে গরুর খামার এবং ঢাকার বিভিন্ন গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কথা জানান।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোড়াঘাট থানাধীন সাগরপুর মৌজার ৫৭ শতক জমি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি ১২ লাখ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমিটি দলিল করে নেন উজ্জ্বল মিয়া। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ করেননি তিনি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। রিফাত কবীরের দাবি, গত ৮ মার্চ থেকে ২ মে ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পূবালী ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে উজ্জ্বল মিয়ার সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাবে মোট ৪৮ লাখ টাকা পাঠান তিনি। এ সংক্রান্ত ব্যাংক লেনদেনের কাগজপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৮ জুন সকালে ওসমানপুর বাজারে উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে দেখা হলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তিনি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং অবশিষ্ট টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। এ সময় স্ট্যাম্পে জমির বায়নানামা, গরু ক্রয়ের বায়নানামা ও দায় স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

তবে পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ ও তালবাহানা করতে থাকেন উজ্জ্বল মিয়া। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রিফাত। জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে তিনি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া একই দিন দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ুন রাইস মিল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁর পথরোধ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোঃ সানোয়ার হোসেন রতন, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও লিয়ন রহমানসহ কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রিফাত কবীরের দাবি, জমি ও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা অর্থ ফেরত না দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদা নিয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান রেজা বলেন, আমার কথা হচ্ছে কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই দলের হোক তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।