
শাহজাহান কবির সাজু : চাকরির পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। চাষ করছেন ধান ও নানা ধরনের সবজি। পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পালন করছেন গরু-ছাগল। এসব উদ্যোগ থেকে বছরে আয় প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। শুধু নিজের স্বাবলম্বিতা নয়, সমাজের অসহায় মানুষের মুখেও হাসি ফোটাতে চান তিনি। বলছি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ২ নম্বর চেংগী ইউনিয়নের জীতেন্দ্রপাড়ার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার সুমন্ত চাকমার কথা।

নিজের ছয় একর জমিতে গড়ে তুলেছেন নানা জাতের আমের বাগান। সেখানে রয়েছে আম্রপালি, বার্মিজ রাঙ্গুয়াই, ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, কিউজাই ও বারি-৪ জাতের আম। আট-নয় বছর বয়সী বাগানটিতে প্রতিবছরই ফলন হচ্ছে। আমের পাশাপাশি চাষ করছেন মাল্টা, কলা, লেবু, পেয়ারা, নারকেল, লটকন ও লিচু।
ফল চাষের পাশাপাশি তিন একর জমিতে ধান আবাদ করেন সুমন্ত। তাঁর সবজির বাগানে রয়েছে আলু, মূলা, টমেটো, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন ও কুমড়াশাক। এ ছাড়া পুকুরে মাছ চাষ এবং গরু-ছাগল পালন করছেন। চাকরির দায়িত্ব পালনের পর অবসর সময়ে নিজেই বাগান ও খেতের পরিচর্যা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিকও নিয়োগ দেন।
কৃষির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় সুমন্ত। নিজ উদ্যোগে মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করেন। কোনো এলাকায় কারও মৃত্যু হলে শ্মশানে দাহকাজের জন্য লাকড়ি সংগ্রহে সহযোগিতা করেন। দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা কিনে দেওয়ার মতো মানবিক কাজেও এগিয়ে আসেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চেংগী নদীর ওপর বাঁশের সেতু নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন সুমন্ত। লগাং ও চেংগী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের চলাচল সহজ করতে সেতুটি নির্মাণে শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও শ্রম দেন। স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ এবং শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসেন সুমন্ত। কৃষি উদ্যোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর এমন ভূমিকা অন্যদেরও উৎসাহিত করছে।
সুমন্তের স্বপ্ন, কৃষি উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করে বড় উদ্যোক্তা হওয়া। নিজের প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, নিজের পরিশ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সমাজের জন্যও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।৷