
ঘোড়াঘাটে মহাষষ্ঠী মধ্যে দুর্গাপূজাশারদীয় দুর্গোৎসব শুরু
ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মহালয়ার পর থেকেই পূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে দিয়েই শুরু হলো পাঁচ দিনের উৎসব, শুক্রবার (১৬ অক্টোম্বর) হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
“যা শুভ, তাই হোক প্রতিষ্ঠিতয়া অশুভ, তাই হোক বিনাশ”— এই মন্ত্রপাঠে মুখরিত হলো ষষ্ঠীর সকাল। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ধূপধুনোর গন্ধে চারদিক ভরে উঠেছে ধর্মীয় উৎসব। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে উৎসবের সুবাস যেন জানিয়ে দিচ্ছে এসে গেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ উৎসব, শারদীয় দুর্গাপূজা।
আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনব্যাপী এ উৎসব।
মন্দিরে মন্দিরে দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শুরু মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় ঢাক-ঢোলের বাজনা, কাঁসা, শঙ্খের আওয়াজ এবং ভক্তদের উলুধ্বনিতে দেবী দুর্গাকে অশুভশক্তির বিনাশে পৃথিবীতে স্বাগত জানানো হয়।
সন্ধ্যায় হবে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস এ বছর (২০২৬ সালে) দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন হবে ঘোড়ায় (ঘোটক) এবং কৈলাসে প্রত্যাবর্তন বা গমন হবে নৌকায়। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার পূজা আনন্দমুখর করে তুলতে মন্ডপে মন্ডপে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন বইছে উৎসবের আমেজ।
ঘোড়াঘাট সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিষœ পদ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সরুপ কুমার সাহা জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলায় পৌরসভাসহ মোট ৩৬ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঘোড়াঘাট পূজামন্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিক। এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ বাকি। কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলোও শেষ হয়ে যাবে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আমরা আশা করছি। সবাই মিলে নির্বিঘেœ উৎসব উদযাপন করতে চাই।
ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুুল হাসান বলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৩৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিষেœ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব ধর্মালম্বীর সহযোগিতা চাই। আশা করি উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা শুরুর আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করি উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।