👁 518 Views

সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে পশুর হাট প্রস্তুত রয়েছে ৬ লক্ষাধিক গবাদি পশু

এইচএম মোকাদ্দেস,সিরাজগঞ্জ   আসন্ন  পবিত্র ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে পশুর হাটগুলো। কোরবানির জন্য এবার  সিরাজগঞ্জ জেলায় ১৭ হাজার  খামারে প্রায়  ৬ লক্ষাধিক গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই হাটগুলোতে কোরবানির পশু কেনা বেচাও শুরু হয়ে গেছে। জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে  প্রায় ৩ লাখ । এবার এ চাহিদা মিটিয়ে বাকি ৩ লাখের বেশি পশু ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ ও বিক্রি করা হবে ঈদের আগেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, জেলার ৯টি উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় ১৭ হাজার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মোটাতাজা করা হচ্ছে কয়েক মাস আগে থেকেই। বিশেষ করে এ জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, এনায়েতপুর ও বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খামারগুলোতে পশু মোটাতাজাকরণ বেশি হচ্ছে।
এছাড়া কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠা খামার, মিনি খামারেও পশু পালন ও মোটাতাজাকরণ চলছে। এসব পশু মোটাতাজাকরণে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবার ব্যবহার না করার জন্য ইতিমধ্যে   প্রচার করেছে স্থানীয় প্রাণী সম্পদ বিভাগ। এবার সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশু বিক্রির হাট রয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শালুয়াভিটা, রতনকান্দি, কালিয়া কান্দাপাড়া, রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা, সলঙ্গা, পাঙ্গাসী, উল্লাপাড়া উপজেলার বোয়ালিয়া, গ্যাসপাম্প, শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী, বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর পশুর হাট উল্লেখযোগ্য। এসব হাটগুলোর মাধ্যমে গবাদি পশু বিক্রি করবে খামারিরা।
স্থানীয় খামারিরা বলছেন, দফায় দফায় বেড়েই চলছে গো-খাদ্যের দাম। এতে খামারিদের এখন গো-খাদ্যের খরচও বেড়েছে। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে কোরবানির পশুর দামও বৃদ্ধির আশা করছেন তারা। এবার জেলায় কোরবানির জন্য ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩ টি গরুসহ বিভিন্ন পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের বাড়িতে বাড়িতেও এসব পশু লালন পালন করা হচ্ছে। ছোট বড় খামারিসহ প্রান্তিক কৃষকেরা এবার লাভবান হওয়ার আশা করছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সবকয়টি উপজেলার খামার পরিদর্শন করা হচ্ছে। গো-খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে এবং বেশিরভাগ খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন।
 অবশ্য ইতঃপূর্বে প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যথানিয়মে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে খামারিদের সচেতন করা হয়েছে। পশুগুলোর নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং খামারিদের পশু বিক্রয়ের সুবিধার্থে অনলাইনে প্রচারের প্রক্রিয়া নেয়া হয়েছে।
সেইসাথে হাটে পশু পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য ভ্যাটেনারী টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান  প্রাণী সম্পদ বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *