
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় এই প্রথম মাদক মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সুকান্ত শাহা এই রায় ঘোষণা করেন৷ রায় ঘোষণার সময় একজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। তবে অপরজন পলাতক রয়েছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন,নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে হারুন (৪২) এবং সন্তোষপড়া গ্রামের নাজিরের ছেলে জুয়েল ওরফে টুয়েল (৪৫)। এর মধ্যে জুয়েল পলাতক রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে দুইজন ব্যক্তি মাদক নিয়ে নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া বাজার এলাকায় আসছেন। সংবাদ পেয়ে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ছাতড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে তারা গাড়ি থামিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদেরকে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের দেহ তল্লাশি চালিয়ে জুয়েল ওরেফে টুয়েলের কাছ থেকে ৬০ গ্রাম এবং হারুনের কাছ থেকে ৪০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ওই সময় উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সাথে তাদের ব্যবহৃত একটি লাল রঙের ১৫০ সিসির পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। পরবর্তী পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯ ধারায় মামলা দায়ের করে। মামলাটির তদন্ত এবং তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক আসামি হারুনের উপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত নওগাঁ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৪ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শওকত ইলিয়াস কবির এবং রাষ্ট্র কর্তৃক আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম জুবায়ের।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শওকত ইলিয়াস কবির বলেন, মাদকের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড একটি নজির। আদালত যে রায় দিয়েছেন এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ খুবই সন্তুষ্ট।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম জুবায়ের বলেন, আসামি ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল এমন তথ্য প্রমাণ না পাওয়া স্বত্বেও রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। আসামি ও তাদের পরিবারের সাথে আলোচনা করে পবর্তীতে আপিল করা হবে।