
মো:আব্দুল হাফিজ দিনাজপুর প্রতিনিধি। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা এবং সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ছাত্র রিফাত(ছদ্মনাম) এক ভয়ংকর অপহরণ ও পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার পেয়েছে [১]। ছুটির শেষে বাড়ি থেকে স্কুলে ফেরার পথে সে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ (স্কোপোলামিন) নামক এক মারাত্মক সম্মোহনী ড্রাগ প্রয়োগকারী চক্রের শিকার হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পথিমধ্যে একটি অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্র নিখুঁত কৌশলে রিফাতের ওপর কেমিক্যাল স্প্রে করে। মূহূর্তের মধ্যে ড্রাগের প্রতিক্রিয়ায় তার স্বাভাবিক মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সম্পূর্ণ সম্মোহিত ও অচেতন অবস্থায় চক্রটি তাকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর রিফাতের আংশিক জ্ঞান ফিরলেও তীব্র ড্রাগের কারণে তার ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা ছিল না। এই অসহায় অবস্থায় তার সঙ্গে আলমগীর নামের এক টুপি বিক্রেতার দেখা হয়। আলমগীর সাহায্যের ভান করে রিফাতকে নিজের হেফাজতে নেয়।
তবে রিফাতের পরবর্তী জবানবন্দি অনুযায়ী, আলমগীর তার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে একাধিকবার বলাৎকারের (যৌন নির্যাতন) চেষ্টা চালায়।রিফাত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ যেন করতে না পারে, সেজন্য রিফাতকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আনার পথে কুমিল্লায় পুনরায় জোরপূর্বক তীব্র ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় জনৈক টুপি বিক্রেতা আলমগীরের বাসায় এনে একদিন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে আলমগীর তাকে সাথে করে নোয়াখালী জেলায় নিয়ে যায়।
রিফাতের নিখোঁজের বিষয়ে দিনাজপুর ফুলবাড়ি থানায় জিডি করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নামে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), জেলা সাইবার টিম ও ফুলবাড়ী থানা পুলিশ। টানা ৪৮ ঘণ্টার এক যৌথ ও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে নোয়াখালীর মাইজদী এলাকা থেকে ভিকটিম রিফাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অভিযান পরিচালনাকারী দলের মূল লক্ষ্য ছিল রিফাতকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা। এই সুযোগ নিয়ে ধূর্ত টুপি বিক্রেতা আলমগীর কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আলমগীরসহ অপহরণ ও নির্যাতন চক্রের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।