
ইয়ানূর রহমান : শার্শার বাগআঁচড়া পাঁচপুকুর এলাকায় নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশের সরকারি জায়গা থেকে পুরোনো পাঁচটি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেহরাব ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেছেন, ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের এসব গাছ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা থেকে বনবিভাগের অনুমতি দেখিয়ে কেটে নেওয়া হয়েছে।
গাছ কাটার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে বাধা দেন। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দাবি করেন, সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী তারা ৪২টি গাছ কাটার অনুমতি পেয়েছেন এবং সেই অনুমোদনের ভিত্তিতেই গাছ কাটছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় ৪২টি গাছের কোনো অস্তিত্ব নেই। অনুমোদনের অপব্যবহার করে অন্য বিভাগের সরকারি গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাসড়কের পাশের এসব মেহগনি গাছ ৩ যুগেরও বেশি সময় রয়েছে। এলাকাবাসী এগুলোকে জেলা পরিষদের লাগানো সরকারি গাছ হিসেবেই জানতেন। তাদের আশঙ্কা, এভাবে বড় গাছ কেটে ফেললে পরিবেশের পাশাপাশি মহাসড়কের স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর বলেন, বনবিভাগের অনুমোদনপত্র দেখিয়ে ভিন্ন বিভাগের সরকারি সম্পদ কেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মেহরাব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে টেন্ডার হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে সেই কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং অনুমোদিত তালিকার বাইরে কোনো গাছ কাটা হয়নি।
শার্শা উপজেলা সামাজিক বনায়ন কেন্দ্রের ইনচার্জ ইউনুচ আলী গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা ওই গাছ কাটিনি। আপনাদের কাছে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়।”
এদিকে যশোর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আশরাফুজ্জামান মঞ্জু বলেন, ২০২৪ সালে টেন্ডারের পর গাছ কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন করে গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে সত্যতা পাওয়া যায় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তবে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে আপাতত বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মহাসড়কের সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।#