
ভালুকা ময়মনসিংহ প্রতিনিধ ময়মনসিংহের ভালুকায় বানার সুতিয়া নদী ভাঙন রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, প্রকল্পের নকশা অনুসরণ না করা এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে ভালুকা উপজেলার চান্দরাটী এলাকায় জহির সরকারের বাড়ির ডাউন হতে উজানের দিকে ৩১ মিটার নদী রক্ষা প্রকল্পটি মেসার্স এনএন এন্টারপ্রাইজ বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই তদারকির অভাব রয়েছে। নির্ধারিত বিটবালির পরিবর্তে মাটিযুক্ত বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া কোথাও কোথাও নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম বালিভর্তি নিন্মমানের জিওব্যাগ ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত প্রকল্পের কাজ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এনএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো: নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তবে, বিট বালির রেট ধরা হয়েছে ৭ টাকা, আর কিনে আনতে হচ্ছে ২২ টাকায়। ১৫ থেকে ২০ গাড়ি বালি আনা হয়েছে, তার মাঝে দুই এক গাড়ি তো মাটি আসতেই পারে।
ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, কোন ধরণের অনিয়ম হওয়ার সুযোগ সেই। তারপরও যদি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে, তদন্ত করে সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, বর্ষার কারণে কাজটির সময় বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হয়েছে।