
স্টাফ রিপোর্টারঃ রবগুড়া জেলা শিবগঞ্জ থানার সংসারদীঘি সাকিনের ধানক্ষেতে এক হতদরিদ্র রাজমিস্ত্রী শাহ আলম(৪৫) এর ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত লাশ। মোটা টাকায় বিক্রি হয়েছে পুলিশ। মামলা না নিয়ে হয়রানি করছে। মানববন্ধন করব। উর্ধতন পর্যায়ে কমপ্লেইন করব।
সকাল ০৯:০০ টায় বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার সংসারদীঘি সাকিনে জনৈক আঃ সালাম এর ধানক্ষেতে এক হতদরিদ্র রাজমিস্ত্রী শাহ আলম(৪৫) এর ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। শাহ আলম অত্যন্ত ভদ্র ও নিরীহ প্রকৃতির লোক। ভিকটিম শাহ আলমের সংসারে ০২ ছেলে বয়স ৮/১০ এর মধ্যে। স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে প্রায় ০২ বছর আগেই অন্য পুরুষের হাত ধরে নতুন সংসার পেতেছে। ডিসিস্ট শাহ আলমের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দালালের মদদে ০৭ জন আসামির নাম উল্লেখ পূর্বক মামলা করতে চায়। যেহেতু এটি একটি ক্লু-লেস হত্যা কান্ড। ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা কেউ জানেনা। খুব স্বাভাবিক ভাবেই ডিসিস্ট পরিবারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম। মামলা হবে অজ্ঞাত। আমাদের উপর ভরসা রাখেন আমরা সঠিক তথ্য উদঘাটন করব।
নাহ্। বিধিবাম। উল্টো মুখে শুরু হল পুলিশের অতীত বর্তমান। চলল মানববন্ধন আর সিনিয়র পর্যায়ে অভিযোগ অনুযোগের হিড়িক। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান। পুলিশ ভিকটিম পরিবারের ইচ্ছামত মামলা নেয় নি। তাদের দেখানো আসামি গ্রেফতার না করে রমরমা বানিজ্য করছে।
অবশেষে কোন এক সূর্যাস্তের পরে নিরব আর কোলাহল মুক্ত অন্ধকার রজনীতে আমাদের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে সেদিনের সেই হত্যাকেন্ডের আসল রহস্য।
কর্মের সন্ধানে অর্ধাঙ্গিনী আর প্রাণ প্রিয় দুটি সন্তানকে রেখে সূদুর নারায়ণগঞ্জে থাকে ডিসিস্ট শাহ আলমের বড়ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক। সেই সুযোগে পরপুরুষে আসক্ত হয় শাহ আলমের ভাবি আরিফা বেগম। রাতের অন্ধকারে আরিফার ঘরে প্রবেশ করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় প্রতিবেশী আসামি শাহীন শেখ। শাহ আলম বিষয়টি বুঝতে পেরে ভাবি আরিফাকে ইতঃপূর্বে সতর্কও করেছে।
ঘটনার দিন ইং-১৫/০৫/২৬ রাত্রী প্রায় ১০ ঘটিকায় ঘাতক শাহীন শেখ তার পরকীয়া প্রেমিকার ডাকে সারা দিয়ে প্রবেশ করে আরিফার ঘরে। বিষয়টি বুঝতে পারে ডিসিস্ট শাহ আলম।
আজ আর ছাড় নয়। হাতে একটি হাসুয়া নিয়ে বীরদর্পে ঘাতকের পথরোধ করে শাহ আলম। ফল হিসেবে পরদিন সকালে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে মিলে শাহ আলমের লাশ। লোকের কথায় বিচলিত না হয়ে পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় অটুট থেকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত রাখা হল।