
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চান্দাইকোনা পশুর হাটে বেড়েছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে হাট ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত পশু অবস্থান ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের দুই পাশে গরু-ছাগল নিয়ে অবস্থান করায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন রাস্তা পার হচ্ছেন হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা ও পথচারী।
ঈদকে ঘিরে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের বাড়তি চাপের মধ্যেই চান্দাইকোনা পশুর হাট এখন কার্যত বিশৃঙ্খল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাট কমিটির দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে চলছে পশু কেনাবেচা। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশেই গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে। একপাশ থেকে অন্যপাশে পশু নিয়ে পারাপারের সময় প্রায়ই থেমে যাচ্ছে যানবাহন। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহনের মাঝ দিয়েই দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন মানুষ। অনেক সময় পশু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝখানে উঠে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চালকদের মধ্যে। এতে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
গরু ক্রেতা মুক্তার হোসেন বলেন, হাটের দিন এই রাস্তা পার হওয়া মানে মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া। চারদিক থেকে দ্রুতগতির গাড়ি আসে। একটু ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা হতে পারে।
আরেক ক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, ঈদের আগে মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। পশু ও মানুষের চলাচল করা খুবই বিপজ্জনক।
স্থানীয় ব্যবসায়ী হজরত আলী বলেন,উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চান্দাইকোনা পশুর হাট সপ্তাহে দুদিন বসে। কিন্তু প্রতি বছর ঈদ এলেই একই ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের দুই পাশে হাট ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে রাস্তা পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাট এলাকায় নেই কোনো ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস। পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও নেই কার্যকর তদারকি। হাটবারে পশুবাহী ট্রাক, ভ্যান ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।
চান্দাইকোনা হাট কমিটির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম খাঁন উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি, পুলিশও ছিল। হাট তো সরকারি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে তার এমন বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাননি হাটে আসা অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবেই হাট এলাকায় প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা, যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মহাসড়কের দুই পাশে পশু অবস্থান ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জনগনের উদাসীনতাকে দায়ী করে জানান, হাটবারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার পরেও জনগন উদাসীনভাবে চলা ফেরা করছে ।
