
নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি হওয়া ব্যাগসহ ল্যাপটপ ও ক্যামেরার মধ্যে ক্যামেরা উদ্ধার না হলেও তিন দিন পর অবশেষে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে। নাটোর শহরের কাপুড়িয়া পট্টি নূর ক্লথ স্টোরের পাশ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত নয়টার দিকে নাটোর সদর থানায় প্রেসবিফ্রিং করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নাটোর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। এ ঘটনায় অন্তর কুমার সাহা (২০) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, গত বৃহস্পতিবার ল্যাপটপ হারানোর পরের দিন শুক্রবার সকালে নাটোর শহরের কাপুড়িয়া পট্টির বাসিন্দা অমল কুমার সাহা তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সান্তাহার হয়ে নওগঁা যাওয়ার সময় সিটের নিচে একটি ব্যাগ পায়। ব্যাগটি নিয়ে তিনি নওগঁা চলে যান। পরে ব্যাগ খুলে ল্যাপটপ দেখে তার ছেলে অন্তরের সাথে কথা বলেন। সংবাদ মাধ্যমে জার্মানী তরুন পর্যটকের ল্যাপটপ হারানোর ঘটনা যেনে বাবা অমল সাহা ছেলে অন্তরকে ঘটনা জানায়। পরে অন্তর রোববার রাতে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল কাপুড়িয়া পট্টি নুর ক্লথ স্টোরের পাশ থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ল্যাপটপটি উদ্ধারের ঘটনা ক্রিল ল্যান্ডার কিরিলকে জানানো হয়েছে। এতে তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার। তবে দেশ জুড়ে এত আলোচিত একটি বিষয় হওয়ার পরও ল্যাপটপটি পাওয়ার চারদিন পর কেন অমল সাহা পুলিশ ফেরত দিলেন তার কোন সদুত্তর তাৎক্ষনিক পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করতে এসে জার্মান তরুন ক্রিল ল্যান্ডার কিরিল বগুড়া থেকে একটি লোকাল ট্রেনে করে সান্তাহার স্টেশনে আসেন। পরে সান্তাহার থেকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে তিনি নাটোর রেলস্টেশনে এসে ভুল করে নেমে পড়েন। নাটোর থেকে তিনি অন্য একটি ট্রেনে করে বাংলাদেশের দর্শনা বর্ডার হয়ে ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো। এজন্য তিনি নাটোর রেলস্টেশনে প্লাটফর্মের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে হলুদ ভেস্ট পরা এক যুবক নিজেকে রেলকর্মী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। পরে ক্রিল ল্যান্ডার ওই যুবকের কাছে নিজের ব্যাগ রেখে টিকিট কাটতে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন, ব্যাগসহ ওই যুবক উধাও হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি রাতেই নাটোর থানায় অভিযোগ করেন। এ সময় পুলিশ ও সংবাদকমর্ীরা তার প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শন করায় তিনি খুশি হন। পরে তার অবস্থানের সুবিধার জন্য প্রথমে রাজশাহী ও পরে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এদিকে
ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগ নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যাওয়া যুবককে ধরিয়ে দিতে সহায়তাকারী ও তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫)। এসআরবি-৫ সিপিসি-২ সুত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্তের চেহারা শনাক্ত হওয়ার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে নাটোর ও আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় ওই যুবকের ছবি সংবলিত পুরস্কার ঘোষণার পোস্টার লাগিয়েছে এসআরবি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।