
পটিয়া প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা যুবদলের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ৩০ নম্বর সদস্য মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। অথচ দলীয়ভাবে অনুমোদিত কমিটিতে তিনি সদস্য পদে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, শুভেচ্ছা বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন প্রচারণামূলক উপকরণে জিয়াউর রহমানের নামের পাশে “যুগ্ম আহ্বায়ক, পটিয়া উপজেলা যুবদল” পদবী ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি দলীয় নেতাকর্মীদের নজরে এলে তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা এবং তার পদবী ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিশেষ করে গত ৫ জুন সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পটিয়া সফর উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে টানানো ব্যানার ও ফেস্টুনে জিয়াউর রহমানকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা মন্তব্য করতে দেখা যায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের।
দলীয় একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেন্দ্রীয় ও জেলা যুবদলের অনুমোদিত আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় জিয়াউর রহমান সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে তার নাম নেই। ফলে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই তিনি কীভাবে নিজেকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, “উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আরাফাত ইয়াসিন এবং সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা করেই আমি যুগ্ম আহ্বায়ক পদবী ব্যবহার করছি। ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির আমি ৩০ নম্বর সদস্য। ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেই কারণেই আমি পদবীটি ব্যবহার করে আসছি। বিষয়টি নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।”
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন পটিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আরাফাত ইয়াসিন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ এনামুল হক এনামের দিকনির্দেশনায় তাকে আগামী কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করার প্রস্তাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাবনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তিনি নিজেকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করতে পারেন না। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের পরিচয় ব্যবহার দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা ছাড়া আ র কিছু ন য়।”
বিষয়টি নিয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আজগর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কমিটির বাইরে কোনো ব্যক্তি পদ-পদবী ব্যবহার করার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমারও নজরে এসেছে। এ বিষয়ে উপজেলা আহ্বায়ক ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের অবস্থান জানানো হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের অনুমোদিত পদ-পদবী নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা সংগঠনের শৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং জনমনে দলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের বিতর্কের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দ্রুত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে পদবী বিতর্ককে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।