
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চলতি মৌসুমে পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মনে। ভরা মৌসুমেই মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষকদের দাবি, অন্তত গত ৮-১০ বছরের মধ্যে এ সময়ে এমন দাম তারা পাননি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা রিকশা ও সাইকেলে করে পাট নিয়ে আসছেন। হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ভালো মানের পাট ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি মানের ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং নিম্নমানের পাট ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
মহদীপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের কৃষক মতলেব বলেন, ‘এবার পাটের দাম ভালো। এমন বাজার থাকলে আগামীতে পাটের আবাদ বাড়াব।’
পাট ব্যবসায়ী লিটন জানান, মৌসুমের শুরুতেই ভালো মানের পাটের চাহিদা বেড়েছে। ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বাজার বেশ চাঙা।
তবে কৃষকদের আশঙ্কা, মৌসুমের মাঝপথে দাম কমে গেলে আবারও লোকসানে পড়তে পারেন তাঁরা। পাটচাষি জিয়া বলেন, উৎপাদন খরচ, বন্যা ও আবহাওয়ার ঝুঁকির পর বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষকের পক্ষে পাট চাষ ধরে রাখা কঠিন হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাটে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনার দাবি জানান তিনি।
হাটের ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, বর্তমানে কিছু মৌসুমি মজুতদার (স্টোকার) মিলারদের তুলনায় বেশি দামে পাট কিনছেন। এতে বাজারে দাম বেড়েছে। কালিবাড়ী হাটের ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, স্টোকাররা ভালো মানের পাট ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত কিনছেন। মিলাররা ওই দামে না কেনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে পাট কিনতে পারছেন না।
কৃষকদের অভিযোগ, অতীতে ভরা মৌসুমে কম দামে পাট কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। তাই বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবি তাঁদের।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ১৩ হাজার ৯৮৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮৭ টন। গত বছর ১৩ হাজার ৮১৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। চলতি বছর আবাদ বেড়েছে ১৭০ হেক্টর।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে পাটের বাজার ভালো। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।’