
শার্শা (যশোর) সংবাদাদাতা: মালয়েশিয়ায় প্রথম স্ত্রীর সাথে কলহের জের ধরে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি আত্মহত্যা করেছেন। মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে থাকা একটি ক্রেনের সাথে গলায় রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিহত মনিরুল যশোরের শার্শা উপজেলার পান্তাপাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে। তিনি বিগত দুই বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ক্রেন চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে মনিরুলের সাথে তার প্রথম স্ত্রী খাদিজা খাতুনের (৩০) বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। খাদিজা শার্শা ব্র্যাক অফিসের সামনের রেললাইন এলাকার জুব্বার আলীর মেয়ে। প্রথম স্ত্রীর সাথে তালাকের পর মনিরুল মাটিপুকুরিয়া গ্রামের তাইজেল ইসলামের মেয়ে তাসলিমা খাতুনকে (২৭) বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী তাসলিমার ঘরে তাসকিন (৭) নামে এক ছেলে এবং তাবাসসুম (৪) নামে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিগত ছয় মাস আগে দ্বিতীয় স্ত্রী ও স্বজনদের না জানিয়ে গোপনে প্রথম স্ত্রী খাদিজাকে পুনরায় ফোনে বিয়ে করেন মনিরুল। এরপর থেকেই তিনি দেশের বাড়িতে পরিবারের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। গতকাল কোনো এক বিষয় নিয়ে খাদিজার সাথে তার তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে খাদিজাকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে রেখেই মনিরুল নিজের কর্মস্থলের ক্রেনের সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহনন করেন। ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নিহতের গ্রাম পান্তাপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দ্বিতীয় স্ত্রী তাসলিমা ও দুই শিশুসন্তানের কান্নায় ভেঙে পড়েছে স্বজনরা। স্থানীয়রা নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি ও কূটনৈতিক সহায়তা দাবি করেছেন।