
এক মঞ্চে শোক ও বিদায়ের আবেগ-দোয়া, স্মৃতিচারণ ও সম্মাননায় মুখর অনুষ্ঠান
এইচ এম শহিদুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
প্রিয়জন হারানোর বেদনা আর দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ের আবেগ—দুই অনুভূতির মেলবন্ধনে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আবেগঘন অনুষ্ঠান। প্রয়াত বন্ধুদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার পাশাপাশি সরকারি সিরাজ উদ্দীন মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনকে দেওয়া হয়েছে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দি লাইসিয়াম একাডেমির অফিস কক্ষে সুন্দরবন সম্মিলিত সাহিত্য সংসদ ও ‘আলোকিত মোরেলগঞ্জ’-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে দোয়া
অনুষ্ঠানের শুরুতে (১৯৮৫-৮৭) ব্যাচের প্রয়াত বন্ধু মো. শামসুল আলম তালুকদার মন্টু, মো. মহসিন হোসেন, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. মহাসিন রতন মুন্সি, মো. মুহিদুল ইসলাম ধলামিয়া ও মো. আব্দুল হাকিম বেপারীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় প্রয়াতদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা তাঁদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং মরহুমদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অধ্যক্ষের বিদায়ে স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সরকারি সিরাজ উদ্দীন মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
‘আলোকিত মোরেলগঞ্জ’-এর সংগঠক ও ইকরা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এইচ এম সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সভাপতি প্রভাষক মো. জাকির হোসেন রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সিরাজ উদ্দীন মেমোরিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রভাষক মো. শহিদুল আলম, জসিম উদ্দীন হাওলাদার, মো. আলামিন তালুকদার, সমাজসেবক মো. আবুজাফর, মো. জহির উদ্দীন বাচ্চু, শহিদুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক পূর্ণিমা দেবনাথসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও তাঁর শিক্ষা, মূল্যবোধ ও আদর্শ কখনো অবসরে যায় না। শিক্ষার্থীদের জীবন গঠন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে একজন শিক্ষকের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকে।
তাঁরা আরও বলেন, অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্বশীলতা, কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়।
বিদায়ী অধ্যক্ষের অবসর-পরবর্তী জীবন সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই।
সবশেষে প্রয়াত বন্ধুদের আত্মার মাগফিরাত এবং বিদায়ী অধ্যক্ষের সুন্দর ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।