
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: উত্তর জনপদের জেলা গাইবান্ধায় খাদ্য বিভাগের প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও এর আওতাধীন উপজেলা অফিসগুলোতে পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক দাপ্তরিক গতিশীলতা। অতিরিক্ত কাজের চাপে একদিকে যেমন হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী, অন্যদিকে সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও ডিলাররা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সুত্রে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়গুলোর অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর অর্ধেকের বেশি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। খাদ্য পরিদর্শক, উপ-খাদ্য পরিদর্শক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকবল নেই বললেই চলে। অনেক উপজেলায় একজন মাত্র কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে পুরো উপজেলার খাদ্য গুদাম, ওএমএস (খোলা বাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তদারকি করতে হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্য সংগ্রহ অভিযান, অভ্যন্তরীণ বোরো ও আমন সংগ্রহ মৌসুমে কৃষকদের চাল ও ধান সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও খাদ্য গুদামগুলোর স্টক সঠিক রাখতে পরিদর্শনের প্রয়োজন হলেও জনবল সংকটের কারণে পরিদর্শকরা সময়মতো সব জায়গায় পৌঁছাতে পারছেন না। এতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগী সাধারণ মানুষের তালিকা প্রস্তুত ও চাল-আটা বিতরণেও মাঝেমধ্যে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা জানান, একার কাঁধে একাধিক পদের দায়িত্ব পালন করায় কাজের মান যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। জরুরি প্রতিবেদন বা তথ্য নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ ডিলার ও কার্ডধারীরা অফিসে এসে যথাসময়ে সেবা বা সমাধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।
জেলায় মোট ১১৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ৮১ জন কর্মরত রয়েছেন। জনবলের এই ঘাটতির ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকট কেটে যাবে এবং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু। তিনি আশা করেন, নতুন জনবল যোগদানের মাধ্যমেই দাপ্তরিক গতিশীলতা দ্রুত ফিরে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও গাইবান্ধার ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে নতুন জনবল নিয়োগ বা বদলির মাধ্যমে পদায়ন করা না হলে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা ও সংগ্রহ কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলাবাসী।