👁 445 Views

 ডোমারে দুই প্রতিবন্ধী সন্তান‌ নিয়ে  মানবেতর জীবন যাপন করছে হাসিনা বেগম 

রবিউল হক, ডোমার (নীলফামারী ) প্রতিনিধিঃ  নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১নং ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ ঝাক্কুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বেগম, প্রতিবন্ধী ২ সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই তিনি সমাজের বৃত্তবান ধনবান ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে যানাযায়, দীর্ঘ ৪ বছর আগে স্বামী মশিয়ার রহমান তিন সন্তান রেখে মৃত্যু বরণ করেন। তিন সন্তানের মধ্যে দুই সন্তানই শারীরিক এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, একা একা চলাফেরা করতে পারেনা। বড় ছেলে হাবিব, ২য় ছেলে হাইউল হক এবং ৩য় কন্যা সন্তান মনি আক্তার। বড় ছেলে হাবিব এইচএসসি পরীক্ষার্থী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বড় ছেলের লেখাপড়া, দুই প্রতিবন্ধী সন্তান ও অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে কঠিন জীবনযুদ্ধে নেমেছেন হাসিনা বেগম। মাঠে ঘাটে কাজকর্ম করে উপার্জিত আয়ে কোন রকম ভাবে পরিবারের খাওয়া-দাওয়া ভরণ পোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে হাসিনা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রায় চার বছর আগে তার স্বামী মারা যান এরপর থেকে সংসারের সব দায় দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। জীবিকার তাগিদে মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষি জমিতে দিনমজুরের কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনরকম সংসার চালান। অপরদিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে প্রতিবন্ধী ২ সন্তানের গোসল করা, খাওয়ানোসহ সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হয়। প্রতিবন্ধী ২ সন্তানই নিজেরা চলা ফেরা করতে পারে না। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে জানান সন্তানেরা অসুস্থ হলে ওষুধ কেনার টাকা পর্যন্ত তার কাছে থাকে না।
হাসিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত ভাতা চালু হয়নি। তবে তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইল চেয়ার দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার সন্তানের জন্য কোন হুইল চেয়ার বরাদ্দ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, হাসিনার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সে একাই দুই প্রতিবন্ধী সন্তান অসুস্থ শাশুড়ীকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিভিন্ন সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করে, কৃষি জমিতে দিনমজুরের কাজ করে শাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে কঠিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। স্থানীয়রা আরও বলেন, হাসিনার দ্রুত বিধবা ভাতা চালু, প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করলে পরিবারটি কোন রকম খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারবে বলে তারা দাবি করেন।
এবিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদ মাহমুদ বলেন, সারা বাংলাদেশের ন্যায় আমাদের ডোমারেও বয়স্ক ও বিধবা ভাতার বরাদ্দ সীমিত থাকায় দেয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডোমার উপজেলায় সাড়ে ৫ হাজারের মতো বয়স্ক বিধবা ভাতা অপেক্ষমান তালিকায় আছে। আর প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ারের আবেদন করলে আমরা দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বীর কাছে হাসিনার মানবেতর জীবন যাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি প্রতিবন্ধী সন্তান এবং শাশুড়িকে নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন। যদি তিনি বিধবা ভাতার আবেদন করে থাকেন তবে প্রসিডিউর আছে আমরা সেটা চালু করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের যদি কোন সরঞ্জাম দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে আমরা সেটি করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *